কফি শুধু ক্লান্তি দূর করার পানীয় নয়, এতে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোষের ক্ষতি কমাতে সহায়তা করতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, কফিতে থাকা কয়েকটি বিশেষ যৌগ শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনকে সক্রিয় করতে পারে, যা কোষের চাপ, প্রদাহ ও ক্ষতির প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বয়সজনিত বিভিন্ন সমস্যার বিরুদ্ধে কোষকে সুরক্ষা দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কফিতে থাকা ক্যাফেইক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ যৌগ কোষের কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরীক্ষাগারে এসব উপাদান কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু প্রক্রিয়া কমিয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধিও ধীর করেছে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই গবেষণার অর্থ এই নয় যে কফি পান করলেই বার্ধক্য থেমে যাবে বা কোনো রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। বরং কফির উপাদান শরীরের কোষে কীভাবে কাজ করতে পারে, গবেষণাটি তার একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিয়েছে।
গবেষণার সঙ্গে যুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. স্টিফেন সেফ বলেন, কফির উপাদান ও কোষের কার্যক্রমের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীরভাবে বুঝতে অতিরিক্ত গবেষণা প্রয়োজন। পরীক্ষাগারের ফলাফল মানুষের স্বাস্থ্যে কীভাবে কাজে লাগানো যাবে, তা জানতে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা দরকার।
তিনি জানান, তার দল প্রায় ১৫ বছর ধরে কোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণকারী বিশেষ প্রোটিন নিয়ে গবেষণা করছে। বয়সজনিত রোগ, ক্যানসার ও কোষের ক্ষতির মতো বিষয়গুলোতে এসব উপাদানের ভূমিকা বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গবেষকরা বলছেন, কফির মতো উদ্ভিদজাত খাবারে থাকা বিভিন্ন উপকারী যৌগ শরীরের কোষের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর আগে ফল ও সবজিতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড জাতীয় উপাদানের সঙ্গেও কোষ সুরক্ষার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘নিউট্রিয়েন্টস’ জার্নালে। গবেষকদের মতে, কফির উপাদান মানুষের বার্ধক্য ও বয়সজনিত রোগের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
সূত্র: নিউজ উইক
এসএন/পিডিকে