সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আইনুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে রায়গঞ্জের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ মিছিল করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
ঘটনার পর এমপির সঙ্গে থাকা ফয়সল বিশ্বাস নামের একজনের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে এমপি আইনুল হক বলেন, দেশের মানুষের জন্য কাজ করার উদ্দেশ্যে তারা বের হয়েছিলেন। এ সময় কিছু দুষ্কৃতকারী হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। একজন সংসদ সদস্য হয়েও তিনি বর্তমানে নিরাপদে নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
এ সময় এমপির সঙ্গে থাকা ফয়সল বিশ্বাস ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর ইন্ধনে ছাত্রশিবির ও এনসিপির নেতাকর্মীরা এমপির গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে।’
রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শামসুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের রায়গঞ্জে একটি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণের জন্য কয়েকটি স্থান নিয়ে আলোচনা চলছে। বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে জোড় দাবি জানানো হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের জন্য।
এমন পরিস্থিতিতে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের স্থান নির্ধারণ বিষয়ে আলোচনার জন্য রায়গঞ্জ পৌর বিএনপি একটি সভার আয়োজন করে। আজ শনিবার বিকেলে ধানগড়া বাজারে পৌর বিএনপির সভাপতি হাতেম আলীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসান মিরনের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য আয়নুল হক।
শামসুল ইসলামের অভিযোগ, সভায় স্থানীয় বিএনপির পাশাপাশি জামায়াত, শিবির নেতাকর্মী ও সাবেক সমন্বয়কেরা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াত, শিবির নেতাকর্মী ও সাবেক সমন্বয়কেরা সভার শুরুতেই ধানগড়ায় সেন্টারটি নির্মাণের দাবিতে স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এ অবস্থায় সংসদ সদস্য এটির স্থান নির্বাচনে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়ে বক্তব্য শেষ করে চলে যাওয়ার মুহূর্তে আচমকা তার গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে তারা নিজেরাই নিজেদের গাড়ি ভাঙচুর করে এর দায় জামায়াতে ইসলামীর ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমরা এ ধরনের নোংরা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’