এবার শুরু ‘আসল বিশ্বকাপ’

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হয়েছে আগেই। নকআউটে একের পর এক বিদায় নিচ্ছে জায়ান্ট দলগুলো। এখন আর দ্বিতীয় সুযোগের কোনো জায়গা নেই। একটি ভুল, একটি খারাপ দিন কিংবা একটি মুহূর্তের অসাবধানতাই শেষ করে দিতে পারে চার বছরের স্বপ্ন। তাই ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচকে নতুন টুর্নামেন্টের শুরু বলেই দেখছেন পর্তুগালের প্রধান কোচ রবার্তো মার্তিনেস।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর পাঁচটায় কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। দুই দলই গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে। তবে গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্স পেছনে ফেলে এখন সামনে তাকাতে চান মার্তিনেস।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ঐক্য, মেধা এবং প্রতিশ্রুতি থাকার কারণে আমাদের দলটা খুবই শক্তিশালী। আমি আত্মবিশ্বাসী। যে তিনটা ম্যাচ ইতোমধ্যে আমরা খেলেছি, সেগুলো প্রস্তুতির অংশ ছিল; কঠিন মুহূর্তে আমরা দৃঢ়তা ও তীব্রতা দেখিয়েছি। যখন আপনি ভালো একটা পর্যায়ে থাকবেন, তখন জেতাটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, হারাটাও গুরুত্বপূর্ণ। কলম্বিয়ার বিপক্ষে না হারাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের জন্য। আসল বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে, আগামীকাল (শুক্রবার) থেকে।’

গ্রুপ পর্বে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ড্র, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয় এবং কলম্বিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য সমতায় পর্তুগালের পারফরম্যান্স ছিল মিশ্র। সেই সময় সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল দলকে। কিন্তু নকআউটে এসে অতীতের হিসাব আর টানতে চান না মার্তিনেস। তার বিশ্বাস, আসল পরীক্ষা শুরু হচ্ছে এখন।

এই ম্যাচকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় দুই অধিনায়ক- ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদ্রিচ। বয়সের কাঁটা চল্লিশ পেরোলেও দুজনই নিজ নিজ দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। চলতি বিশ্বকাপে রোনালদো খেলছেন নিজের রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েছেন। অন্যদিকে মদ্রিচ নিজের পঞ্চম বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে অ্যাসিস্ট করে আবারও প্রমাণ করেছেন, ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠে তার গুরুত্ব এতটুকুও কমেনি।

দুই কিংবদন্তিকে নিয়ে উচ্ছ্বাস লুকাননি মার্তিনেস। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন দুজন খেলোয়াড়কে নিয়ে কথা বলছি, যারা জনমতের ঊর্ধ্বে। তারা বৈশ্বিক আইকন। এত দীর্ঘ সময় ফুটবল খেলা সত্যিই স্পেশাল। ৪০ বছর পার করার পরও লুকা মদ্রিচ একের পর এক ম্যাচ খেলে যাচ্ছেন। আমাদের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই।’

রিয়াল মাদ্রিদে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে খেলে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ একাধিক শিরোপা জিতেছেন রোনালদো ও মদ্রিচ। বয়স নিয়ে আলোচনাকে তাই গুরুত্ব দিতে নারাজ পর্তুগিজ কোচ।

মার্তিনেস বলেন, ‘ওদের জন্য বয়স কেবলই একটি সংখ্যা। আসল বিষয় হলো তারা মাঠে কী করছেন এবং ড্রেসিংরুমে নতুন প্রজন্মের জন্য কেমন উদাহরণ তৈরি করছেন। মদ্রিচ বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ ক্রীড়াবিদ এবং তরুণ ফুটবলারদের জন্য একটি আদর্শ উদাহরণ।’

তবে আবেগের বাইরে বাস্তব হিসাবেও ক্রোয়েশিয়াকে কঠিন প্রতিপক্ষ বলেই দেখছেন তিনি। বিশেষ করে মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের উপস্থিতি পর্তুগালের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন মার্তিনেস, ‘দেখুন, ক্রোয়েশিয়া সবসময় এমন, তারা বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পছন্দ করে; ভীষণ প্রভাব রাখার মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে টেকনিক্যালি দক্ষ দল। তারা কিছু কৌশলগত পরিবর্তনও এনেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তারা খুবই উপরে উঠে খেলেছিল। পরে তারা বাস্তবমুখী হয়। আগামীকাল বল দখলে রেখে খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।’

টরন্টোর গরম আবহাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল সংবাদ সম্মেলনে। তবে এটিকে কোনো অজুহাত বানাতে রাজি নন মার্তিনেস। তার দাবি, বিশ্বকাপের আগে ফ্লোরিডার পাম বিচের আর্দ্র আবহাওয়ায় প্রস্তুতি নেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সঙ্গে তার দল আগেই মানিয়ে নিয়েছে।

মার্তিনেস বলেন, ‘এখানে কোনো বাড়তি সুবিধা বলে কিছু নেই। আমরা পাম বিচে প্রচণ্ড আর্দ্রতার মধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছি। এখানে গরম থাকবে তবে আর্দ্রতা কিছুটা কম। বিশ্বকাপ সবসময়ই কঠিন এবং আমার দল সবকিছুর জন্যই প্রস্তুত। আমরা ক্রোয়েশিয়াকে খুব ভালোভাবেই চিনি, ওরাও আমাদের শক্তি সম্পর্কে জানে। নকআউট ম্যাচ হিসেবে এটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।’

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *