এনসিপিনেত্রী সাদিয়াকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি

ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে নেত্রকোনায় গ্রেপ্তার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী সাদিয়া আক্তারকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

তবে সাদিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন জেলা এনসিপির সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান। আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি দাবি করেন, স্থানীয় বিএনপির একটি মহল ষড়যন্ত্র করে সাদিয়াকে ফাঁসিয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে যেহেতু অভিযোগ এসেছে, তাই সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নোটিশের জবাব দেওয়ার সুযোগও তাকে দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কমিটির ওই চিঠিটি নেত্রকোনা জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিয়া আক্তারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

দলীয় ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাদিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে তাকে নেত্রকোনা জেলা আহ্বায়ক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে ওই চিঠিতে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা কেন নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে লিখিত আত্মপক্ষ সমর্থন, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পর তিন কার্যদিবসের মধ্যে এসব তথ্য ও ব্যাখ্যা কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়া এবং সুলভ মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পাঁচজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে গত ৮ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনা শহরের কুড়পাড় এলাকা থেকে সাদিয়া আক্তারকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে দেয়। পরে তার বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় প্রতারণার মামলা করা হয়। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৯ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তিনি জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *