দেশের সিনেমা হল সংকট যেন আরও গভীর হচ্ছে। একের পর এক প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ হওয়ার তালিকায় এবার যুক্ত হলো কিশোরগঞ্জের ভৈরবের ঐতিহ্যবাহী ‘মধুমতি’ এবং রংপুরের ‘শাপলা টকিজ’। একই দিনে দুটি হলের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় দেশের দুই অঞ্চলের দর্শক হারালেন দীর্ঘদিনের দুটি সিনেমা প্রদর্শনের কেন্দ্র।
ভৈরবের ‘মধুমতি’ সিনেমা হলটি দীর্ঘদিন লোকসানে চলার পর গত বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে হলটি ভেঙে ফেলার কাজও শুরু হয়েছে। সর্বশেষ সেখানে প্রদর্শিত হয়েছে সাইফ চন্দন পরিচালিত ‘মালিক’। হল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক বছর ধরে লোকসান ও দেনা বাড়তে থাকায় প্রেক্ষাগৃহটি আর চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। একসময় ভৈরবে চারটি সিনেমা হল থাকলেও এখন শুধু ‘দর্শন’ হলটি চালু রয়েছে।
অন্যদিকে প্রায় পাঁচ দশকের ইতিহাসের ইতি টানল রংপুরের ‘শাপলা টকিজ’। ১৯৭৮ সালে যাত্রা শুরু করা হলটি ২০০৬ সাল থেকে ভাড়ায় পরিচালনা করছিলেন কামাল হোসেন। তাঁর দাবি, ২০৩২ সাল পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও মালিকপক্ষ সেখানে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই হলটি বন্ধ করতে হয়েছে। শেষ সপ্তাহে সেখানে প্রদর্শিত হয়েছিল শাকিব খানের পুরোনো সিনেমা ‘বলব কথা বাসর ঘরে’।
এদিকে দেশের সিনেমা হল রক্ষায় সম্প্রতি চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ১৯টি সংগঠন যৌথভাবে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। তবে একের পর এক প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সেই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত মানসম্মত সিনেমার অভাব, দর্শক সংকট, দীর্ঘদিনের লোকসান এবং হল আধুনিকায়নের ধীরগতির কারণে দেশের প্রেক্ষাগৃহ ব্যবসা কঠিন সময় পার করছে। ‘মধুমতি’ ও ‘শাপলা টকিজ’-এর বন্ধ হয়ে যাওয়া সেই সংকটকেই আরও স্পষ্ট করে তুলল।