আইফোন কিনতে সন্তান বিক্রি : উদ্ধার শিশু স্বজনদের কাছে হস্তান্তর, মুচলেকায় মুক্ত বাবা

পটুয়াখালীর দশমিনায় আইফোন কেনার টাকা জোগাতে দেড় বছরের নিজ সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় শিশু মুসাকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে উপজেলা প্রশাসন।

আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা শিশুটিকে তার দাদা-দাদির জিম্মায় তুলে দেন। একই সঙ্গে সন্তানের ভবিষতের কথা বিবেচনা করে অভিযুক্ত বাবা মারুফ হোসেন মুন্সীকে বিশেষ বিবেচনায় মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত মারুফ হোসেন উপজেলার বড়গোপালদী গ্রামের মফিজ মুন্সীর ছেলে এবং পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে বের হওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন মারুফ। পরে একই উপজেলার রোমানাথ সেন গ্রামের ইমরান নামে এক ব্যক্তির কাছে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে শিশুকে তুলে দেন। ইমরান শিশুটিকে লালন-পালনের জন্য তার শ্বশুর মাহবুল গাজীর কাছে রাখেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চরবিশ্বাস এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। এর আগে ওই দিন সন্ধ্যায় অভিযুক্ত বাবা মারুফকে আটক করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত বাবা মারুফ জানান, দুই মাস আগে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হলে স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে যান। পরে সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি দত্তক দিয়েছিলেন। তবে বিক্রি করার কথা আংশিক অস্বীকার করে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি ৫২ হাজার টাকা নিয়েছিলেন এবং সেই টাকা দিয়ে একটি পুরনো আইফোন কেনেন।

নিজের ভুল স্বীকার করে মারুফ বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে। আর এমন হবে না। এখন থেকে কাজকাম করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সংসার করব।’

অন্যদিকে শিশুটির মা বৃষ্টি অভিযোগ করে বলেন, স্বামী কাজকাম না করে প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। সেই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তিনি বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার সুযোগেই স্বামী তার সন্তানকে বিক্রি করে দেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, শিশুটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে সহায়তার অর্থ জমা থাকবে। এ ছাড়া শিশুটির পরিবারকে নগদ অর্থ, নতুন পোশাক ও খেলনা উপহার দেওয়া হয়েছে।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম জানান, শিশুটির পরিবার বা মায়ের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় এবং অবুঝ শিশুটির ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে অভিযুক্ত বাবাকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *