অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান ঘাটতি দূর করার আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার, জাতীয় নীতি এবং তৃণমূলের বাস্তবতার মধ্যে বিদ্যমান ঘাটতি দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিতে নতুন সরকারি উদ্যোগ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এ আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এসময় শামা ওবায়েদ বলেন, বিদেশে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে তার শুরুটা হতে হবে দেশ থেকে প্রতিরোধের মাধ্যমে।

শামা ওবায়েদ বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার, দেশের নীতি এবং তৃণমূল পর্যায়ের অভিবাসন প্রত্যাশীদের বাস্তবতার বিষয়ে আরও নিবিড় সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা জোরদারে সরকার নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে।

পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক শ্রমবাজারের প্রেক্ষাপটে গন্তব্য দেশগুলোর কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি, বিদেশে শ্রমবাজারের পরিধি বাড়ানো এবং নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপরও জোর দেন।

নিজ নির্বাচনি এলাকার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী অনিয়মিত অভিবাসন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংঘটিত নিয়োগ জালিয়াতির নতুন ধরন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক অভিবাসীবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের মাধ্যমে সহজলভ্য সেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হয়ে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন উৎসাহিত করতে মাঠপর্যায়ে আরও বেশি সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান তিনি।

অভিবাসনপ্রবণ ১৪ জেলার জেলা প্রশাসকরা অভিবাসনের প্রবণতা, দক্ষতার ঘাটতি, নিয়োগ প্রক্রিয়া, অনিয়মিত অভিবাসন ও অভিবাসীদের সুরক্ষাসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।

অংশগ্রহণকারী মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা অভিবাসন ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন উৎসাহিত করতে সরকারের অগ্রাধিকার ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সম্পর্কে জেলা প্রশাসকদের অবহিত করেন।

তৃণমূল বাস্তবতা যাতে জাতীয় নীতিনির্ধারণ ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত হয়, তা নিশ্চিতে সমন্বিত সরকারি ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় আলোচনায়।

বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো থেকে পাওয়া শ্রমবাজারের চাহিদা, গন্তব্য দেশের প্রয়োজনীয়তা এবং নিয়মিত অভিবাসনের নতুন সুযোগসংক্রান্ত তথ্যও জেলা প্রশাসকদের জানানো হয়। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হবে।

কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ঢাকা, নোয়াখালী, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকরাও সভায় অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *