অনিশ্চিত সময়েও সাহস জোগায় মেটলাইফের জীবনবীমা

পর্যাপ্ত আর্থিক সুরক্ষা না থাকলে পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীর মৃত্যু শুধু তাৎক্ষণিক আয়ের ঘাটতিই তৈরি করে না, বরং সন্তানের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। এ কারণেই অনেক পরিবার জীবনবীমাকে এখন আর শুধু একটি আর্থিক পণ্য নয়, বরং পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। সালমা আক্তারের জীবনেও এমন একটি দিন এসেছিল; হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর স্বামী। শোক সামলানোর পাশাপাশি সামনে এসে দাঁড়ায় সংসারের দায়িত্ব। দুই সন্তানকে নিয়ে কীভাবে সংসার চালাবেন, তাঁদের পড়াশোনা কীভাবে চালিয়ে যাবেন, এসব চিন্তাও তখন তাঁর সামনে।

স্বামীর মৃত্যুর দুই-তিন দিন পর জানতে পারেন, তাঁর স্বামীর নামে একটি বীমা পলিসি ছিল। তিনি মারা যাওয়ার মাত্র ১৭ মাস আগে মেটলাইফ থেকে জীবনবীমা পলিসি করিয়েছিলেন তিনি। বিষয়টি জানার পর দেরি না করে তিনি যোগাযোগ করেন মেটলাইফের এজেন্টের সাথে।

“আমি সঙ্গে সঙ্গেই এজেন্টকে ফোন দিই। তিনি আমার সাথে যোগাযোগ করেন, পরে তিনি আমার বাসায় আসেন এবং আমাকে অনেক সহযোগিতা করেন,” বলেন সালমা।

জীবনের এমন এক কঠিন সময়ে মেটলাইফ থেকে বীমার অর্থ পাওয়া সালমার পরিবারের জন্য শুধু একটি আর্থিক সহায়তা ছিল না, বরং সামনে এগিয়ে যাওয়ার ভরসাও হিসেবে কাজ করে।

সালমার বলেন, “ইন্স্যুরেন্সের টাকাটা না পেলে অনেক সমস্যাই হতে পারত। কারণ এটার মাধ্যমে আমি পুরো পরিবার নিয়ে চলতে পারছি। আমার দুই বাচ্চা নিয়ে চলতে পারছি।”

মা হিসেবে তাঁর সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ছিল সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারানোর পর সংসারের আয় হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে বা কমে গেলে, খাওয়া, বাড়িভাড়ার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় অপরিহার্য জিনিসগুলোর চাহিদা মিটিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারত। সেই জায়গায় জীবন বীমার অর্থ তাঁকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। স্বামীকে হারানোর পর যে অনিশ্চয়তা তাঁর জীবনে নেমে এসেছিল, সেখানে থেকে বীমার টাকা তাঁকে সন্তানদের নিয়ে আবার দৈনন্দিন জীবনে ফিরতে সাহায্য করেছে। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি থেমে থাকেননি—সাহস নিয়ে আবার দাঁড়িয়েছেন, নতুন করে সংসার সামলে নিয়েছেন। তাঁর নিজের ভাষায়, এই সহায়তা না থাকলে সামনে এগিয়ে চলার পথটি আরও কঠিন হয়ে যেত।

“আমি যদি টাকাটা না পেতাম, তাহলে অবশ্যই অনেক সমস্যা হতো। আমার বাচ্চাদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যেত। দুইটা বাচ্চা নিয়ে যে চলাটা, সেটা হয়তো থেমে যেত,” বলেন সালমা। ভবিষ্যতে কী ঘটবে, তা কেউ জানেন না। জীবনের অনিশ্চয়তাও তাই আগে থেকে অনুমান করা যায় না। তবে, অনিশ্চিত সময়ের জন্য কিছুটা প্রস্তুতি নিয়ে রাখা যায়। জীবনবীমা হতে পারে সে প্রস্তুতিরই একটি অংশ।

সালমার অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, সুসময়ের পরিকল্পনার পাশাপাশি কঠিন সময়ের প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রয়োজনের মুহূর্তে একটি বীমা পলিসি একটি পরিবারকে নতুন করে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে ভূমিকা রাখে। ১৯৫২ সাল থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে মেটলাইফ বাংলাদেশ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ১০ লাখেরও বেশি ব্যক্তি গ্রাহক এবং ৯০০টির বেশি করপোরেট গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে। দেশের জীবন বীমা খাতে দাবি নিষ্পত্তিতে শীর্ষস্থানে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৫ সালে ২ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা এবং ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা দাবি পরিশোধ করেছে মেটলাইফ, যা সংশ্লিষ্ট সময়কালে দেশের জীবন বীমা খাতে সর্বোচ্চ। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির দাবি নিষ্পত্তির হার ছিল ৯৮ শতাংশ, যা দেশের জীবন বীমা খাতের অন্যতম সর্বোচ্চ।

মেটলাইফের মত জীবনবীমা প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের জীবনের এমন অনিশ্চিত সময়ের জন্য আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখে। সালমার অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, ভবিষ্যতের কঠিন সময় আমরা হয়তো ঠেকাতে পারি না, কিন্তু সেই সময়ের জন্য কিছুটা প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারি। আর কখনও কখনও সেই প্রস্তুতিই হয়ে ওঠে প্রিয় মানুষদের পাশে থাকার সবচেয়ে বড় অবলম্বন। সালমার মতো লাখো পরিবারের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সাহস আর প্রস্তুতি হাতে হাত রেখে চললে যেকোনো কঠিন সময়ও পেরিয়ে যাওয়া যায়। আজ নেওয়া একটি ছোট সিদ্ধান্তই হতে পারে আগামী দিনের পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *