ভুলে ভরা ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার কাছে সিরিজ খোয়াল বাংলাদেশ

প্রথমবার শ্রীলঙ্কা নারী দলকে সিরিজ হারানোর সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশের সামনে। সেই সুযোগ আর কাজে লাগাতে পারল কোথায়! রাজশাহীর ব্যাটিং সহায়ক উইকেটেও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলল বাংলাদেশ। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির ওই ব্যাটিংই যেন কাল হলো বাংলোদেশের জন্য। বোলিং কিংবা ফিল্ডিংয়েও সেভাবে লড়াই জমিয়ে তুলতে পারল না নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ম্যাচ হারের সঙ্গে সঙ্গে খোয়াল সিরিজও।

আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান করে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ৪৬.৩ ওভারে ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিল শ্রীলঙ্কা।

শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। পঞ্চম ওভারেই দলের সেরা তারকা চামারি আতাপাত্তুকে ফিরিয়ে দেন মারুফা আক্তার। উইকেটের পেছনে জ্যোতিকে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১৫ বলে ১০ রান করেন তিনি।

বাংলাদেশের লড়াইটা ছিল মূলত এখানেই। বারবার বোলিং পরিবর্তন করেও কোনো সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। এর মাঝে ফিল্ডিং মিস ছিল চোখে পড়ার মতো। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতেই প্রতিরোধ গড়ে জয়ের আশা দেখতে থাকে শ্রীলঙ্কা। ওপেনার হাসিনি পেরেরা আর তিন নম্বরে নামা ইমেশা দুলহানি মিলে গড়েন ১০৮ রানের জুটি।

৩২তম ওভারে ফিরতি বলে দারুণ এক ক্যাচ নিয়ে ইমেশাকে ফেরান মারুফা। এর আগেই হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন শ্রীলঙ্কার এই ব্যাটার। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৭৯ বলে ৪৬ রান। ভাঙে ১০৮ রানের জুটি।

ইমেশা ফিরলে হর্ষিতা সামারাবিক্রমাকে নিয়ে আরেকটি জুটি গড়েন হাসিনি। তৃতীয় উইকেটে তাদের ৭৮ রানের জুটিতেই শ্রীলঙ্কা জয়ের বন্দরে ভেড়ে। হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে সেঞ্চুরির দিকে ছুটছিলেন হাসিনি। নার্ভাস নাইন্টিতে কাটা পড়েন তিনি। সোবহানা মোস্তারির বলে ফেরার আগে লঙ্কান ওপেনারের ব্যাট থেকে আসে ১৩১ বলে ৯৫ রান।

তিনি ফিরলেও হানসিমা করুনারত্নকে নিয়ে বাকি কাজটা সেরে নেন হর্ষিতা। ৪৬.৩ ওভারেই জয় তুলে নেয় লঙ্কানরা। হর্ষিতা অপরাজিত থাকেন ৫১ বলে ৪৪, আর হানসিমা  ৪ বলে ২ রান করে।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং ব্যর্থতায় পড়ে বাংলাদেশ। সিরিজে প্রথমবার সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হয়েছে ফারজানা হক পিংকি (২৬ বলে ১১)। টানা তিন ইনিংসে ব্যর্থ হলেন আরেক ওপেনার শারমিন সুলতানা (২৯ বলে ১৭)। তিন নম্বরে নেমে ভালো শুরু পেলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেনেনি শারমিন আক্তার সুপ্তা। ৩৬ বলে ২৫ রান করেছেন তিনি।

চার নম্বরে নেমে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলেছেন ঠিকই কিন্তু তার ব্যাটিং ছিল কচ্ছপ গতির। ৯০ বল খেলে মাত্র ৪০ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে। পুরো ইনিংসে মাত্র একটি বাউন্ডারি মারতে পেরেছেন তিনি।

এতে দুইশ রান পার হওয়ার আগেই বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল। পাঁচ নম্বরে নেমে সেই শঙ্কা কাটিয়ে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি এনে দেন মোস্তারি। একপ্রান্ত আগলে রেখে ৮০ বলে ৭৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি। ইনিংসে শেষ বলে আউট হন তিনি।

মোস্তারিকে সঙ্গ দিতে নেমে শেষ দিকে ১৬ বলে ২০ রানের ইনিংস খেলে দলকে সহায়তা করেন অলরাউন্ডার রিতুমনি।

শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট শিকার করেন কাভিসা দিলহারি। দুটি উইকেট নেন নিমাশা মিপেজ। আর একটি করে উইকেট যায় মালকি মাদারা ও চামারি আতাপাত্তু ঝুলিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *