বাংলাদেশের ভারোত্তোলনে আন্তর্জাতিক সাফল্য এনে দেওয়া মাবিয়া আক্তার নিষিদ্ধ হয়েছেন। ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ায় আন্তর্জাতিক ভারোত্তোলন থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন এই তারকা। নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পর আজ রোববার (১২ এপ্রিল) গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন মাবিয়া। সেখানে কথা বলেছেন আপিলের বিষয় নিয়ে।
সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশনের রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটি মাবিয়াকে নিষিদ্ধ করেছে। ১৪ দিনের মধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। মাবিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আপিল করবেন কি না? এই প্রসঙ্গে নিজের ভাবনার কথা জানান স্বর্ণজয়ী ভারোত্তোলক।
মাবিয়া বলেন, ‘আপিলের জন্য অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আমার বসতে হবে। আপিলের ধারা কোন বিষয়ে, কোন প্রসেসে করতে হবে তার কিছুই জানি না। জানার পর আমার শাস্তির বিষয়ে যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে সেই প্রক্রিয়ায় আমি যাব না। আরেকটি ব্যাপার আছে, মেডিকেল কমিটি যারা আমাকে অবগত করেছে তাদের কাছে একটা আপিল করা আমাকে মাফ করার জন্য। এই একটি প্রক্রিয়া আমার জন্য খোলা আছে। অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সাথে আমার আলোচনার আগে কিছুই বলতে পারছি না।’
ঘটনার সূত্রপাত গত বছর সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের সময়। গেমস শুরুর আগে ২৯ অক্টোবর ঢাকায় মাবিয়ার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ‘ফুরোসেমাইড’ ও ‘ক্যানরেনোন’ নামক নিষিদ্ধ দ্রব্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এই উপাদানগুলো সাধারণত শরীর থেকে দ্রুত পানি বের করে দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়, যা অ্যাথলেটদের জন্য নিষিদ্ধ।
২০১২ সালে ক্যারিয়ার শুরু করা মাবিয়ার ঝুলিতে রয়েছে আন্তর্জাতিক পাঁচটি সোনা। ২০১৬ ও ২০১৯ এসএ গেমসে সোনা জিতে তিনি দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন। সেই সোনালি ক্যারিয়ারে এখন নিষেধাজ্ঞার কালো দাগ।