মুরগির বিষ্ঠার ব্যবসার দখল নিতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কাহালগাঁও বাজারে তাণ্ডবের ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মু. কামরুল হাসান মিলনের ভাই কিরণসহ ৪৭ এজাহার নামীয় এবং ২৫০ জানের নামে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছয়জনকে।
গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে মুরগির বিষ্ঠার ব্যবসার দখল নিতে এবং কাহালগাঁও বাজারে আধিপত্য বিস্তারে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী নারকীয় তাণ্ডব চালায়।
ঘটনার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে উপজেলা সদরে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করে।
উপজেলা সদরের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ চত্বর থেকে বের হওয়া মিছিল প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক এ কে এম শমসের আলী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন খান বাপ্পি, সাবেক কাউন্সিলর আবুল ফজল প্রমুখ।
এর আগে গতকাল বুধবার (৮ এপ্রিল) কাহালগাঁও এলাকায় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী।
মামলায় জামায়াতের স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মু. কামরুল হাসান মিলনের ছোট ভাই কিরণ, উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হক শামিম, সেক্রেটারি ডা. আব্দুর রাজ্জাক, নায়েবে আমির গোলাম মোস্তফা, কর্মপরিষদ সদস্য মো. আ. মজিদসহ ৪৭ জন এজাহার নামীয় এবং অজ্ঞাত ২৫০ জনের নামে বুধবার রাতে মামলা করেন উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আ. কাইয়ুম তালুকদার।
এ মামলায় মনিরুল ইসলাম (৪২), শফিকুল ইসলাম (৪৫), ইদ্রিস আলী (৫৫), ইমরানসহ (৩২) ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে এনায়েতপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে দুটি বাস ও একটি ট্রাকে করে প্রায় শতাধিক বহিরাগত প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কাহালগাঁও গ্রামে অবস্থান নেয়। রাত ১০টার দিকে প্রায় দেড় শতাধিক দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাজারে বিএনপির নেতাকর্মী ও তাদের স্বজনদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। তারা বাজারে ওষুধের দোকান, পোলট্রি ফিডের দোকান, সার ও কীটনাশকের দোকান, মনিহারি এবং মিষ্টির দোকানসহ ১৩ থেকে ১৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর করে। হামলাকারীরা একটি প্রাইভেটকার, পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে চারটি মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২৭ লাখ টাকা নগদ ও মালামাল লুট হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে হামলাকারীরা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এনায়েতপুর ইউনিয়নে সিপি বাংলাদেশ ও নারিশ নামে কয়েকটি কোম্পানি রয়েছে। এসব কোম্পানিতে মুরগি বাচ্চা, ডিম ও মাংস উৎপাদন করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা এসব কোম্পানির মুরগির বিষ্ঠা বিক্রি নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। কাহালগাঁও গ্রামে অবস্থিত সিপি বাংলাদেশ-৫ নামের কোম্পানির মুরগির বিষ্ঠা বিক্রির নিয়ন্ত্রণ নিতে মানুষের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা কাহালগাঁও বাজারে বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় কাহালগাঁও বাজারে থাকা উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল কাইয়ুম তালুকদারের প্রাইভেটকার, স্থানীয় শ্রমিকদলনেতা শাহজাহান, ব্যবসায়ী রুবেল আহাম্মদের গাড়িসহ পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক মোহা. আব্দুল করিম সরকার, এনায়েতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন প্রমুখ।
উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল কাইয়ুম তালুকদার বলেন, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি করতে জামায়াতের এমপির ভাই এবং ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাজারে হামলা চালায়। এ সময় তারা দোকানপাট, গাড়ি ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকা লোটপাট করে নিয়ে গেছে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সন্ত্রাসীরা যে তাণ্ডব চালিয়েছে তা এ যুগে কল্পনাতীত। বাজারের একটি এজেন্ট ব্যাংকসহ প্রায় প্রতিটি দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।
ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, কাহালগাঁও বাজারের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত এজাহার নামীয় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কিছু বিস্ফোরক ও দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।