শেষ ওভারের রোমাঞ্চে দিল্লিকে হারাল গুজরাট

দারুণ ব্যাটিংয়ে গুজরাট টাইটান্সকে দুইশ ছাড়ানো পুঁজি এনে দিয়েছিলেন শুবমান গিল-ওয়াশিংটন সুন্দররা। সেই লক্ষ্যও অবশ্য নিরাপদ ছিল না তাদের জন্য। ভালো শুরুর পরও ব্যাটিং ব্যর্থতায় পড়ে দিল্লি ক্যাপিটালস। তবুও শেষ ওভারের নাটকীয়তায় গড়ায় ম্যাচ। সেখানে ১৩ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেনি দিল্লি। দেখেছে হার।

আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) দিল্লির অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২১০ রান সংগ্রহ করে গুজরাট টাইটান্স। জবাব দিতে নেমে ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০৯ রান তুলতে পারে দিল্লি। গুজরাট জয় পায় এক রানে।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা দারুণ হয় দিল্লি ক্যাপিটালসের। উদ্বোধনী জুটিতেই দুই ওপেনার কেএল রাহুল আর পাথুম নিশাঙ্কা ৭৬ রানের জুটি গড়েন। ২৪ বলে ৪১ রান করে নিশাঙ্কা ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। দিল্লির ব্যাটিং লাইনের ধ্বসও শুরু হয় ওখান থেকেই।

নিশাঙ্কা ফেরার পর যাওয়া-আসার মিছিল শুরু করেন দিল্লির ব্যাটাররা। একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন কেএল রাহুল। বোড়িয়ে নিচ্ছিলেন দলের রান। ব্যাক্তিগত হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে সেঞ্চুরির কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কাটা পড়েছেন নার্ভাস নাইটিতে গিয়ে। ৫২ বলে ৯০ রান করে মোহাম্মদ সিরাজের বলে উইকেটে পেছনে ক্যাচ দিয়ে।

এরপর দিল্লির আশার বাতিও অনেকটাই নিভে যায়। শেষ ওভার পর্যন্ত সেটাকে বাঁচিয়ে রাখেন ডেভিড মিলার। বিপ্রজ নিগমকে নিয়ে ম্যাচ শেষ ওভারের সমীকরণে নিয়ে যান মিলার।

শেষ ওভারে ৬ বলে প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। প্রশিধ কৃষ্ণার প্রথম বলেই চার হাঁকান বিপ্রজ নিগম। দ্বিতীয় বলেও তুলে মারতে গিয়ে দেন উইকেট। নতুন ব্যাটার হিসেবে উইকেটে এসে তৃতীয় বলে সিঙ্গেল নিয়ে মিলারকে স্ট্রাইকে পাঠান কুলদ্বীপ।

চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকান মিলার। শেষ দুই বলে ২ রান প্রয়োজন ছিল। পঞ্চম বলে কোনো রান নেন মিলার, ফিরিয়ে দেন কুলদ্বীপকে। ফলে শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ২ রানের। কিন্তু এবার প্রশিধ কৃষ্ণার বাউন্সার বল ব্যাটে লাগাতে পারেননি মিলার। সিঙ্গেল নেওয়ার চেষ্টা করলে রান আউট হন কুলদ্বীপ। ১ রানে জয় তুলে নেয় গুজরাট।

গুজরাটের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার রশিদ খান। দুটি উইকেট নেন প্রশিধ কৃষ্ণা আর একটি উইকেট যায় মোহাম্মদ সিরাজের ঝুলিতে।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি গুজরাট টাইটান্সের। দলীয় ১৯ রানের মাথায় হারায় ওপেনার সাই সুদর্শনকে (৭ বলে ১২)। এরপর অবশ্য আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি গুজরাটকে। পরের তিন ব্যাটারই বড় পুঁজি এনে দেন দলকে। অধিনায়ক শুবমান গিল দ্বিতীয় উইকেটে জস বাটলারকে নিয়ে ৬০ রানের জুটি গড়েন। ২৭ বলে ৫২ রান করে বাটলার বিদায় নিলে ভাঙে এই জুটি।

বাটলার ফিরলেও আরও কিছু ব্যাটিং করে যান গিল। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ফিরছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। অবশ্য এর আগেই তাকে ফেরান লুঙ্গি এনগিদি। ফেরার আগে ৪৫ বলে ৭০ রান করেন তিনি।

চার নম্বরে নেমে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন ওয়াশিংটন সুন্দরও। ৩২ বলে ৫৫ রান আসে তার ব্যাট থেকে। শেষ দিকে ৯ বলে ১৪ রান করেন গ্লেন ফিলিপস। গুজরাটের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২১০ রান।

দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট শিকার করেন মুকেশ কুমার। একটি করে উইকেট নেন লুঙ্গি এনগিদি ও কুলদ্বীপ যাদব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *