ভূমি ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করতে হবে এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর কাটাবনে ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (এলএটিসি) অডিটোরিয়ামে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণের (ইউএনও) জন্য আয়োজিত উচ্চতর ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল তার বক্তব্যে দক্ষ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব ভূমি সেবা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, সব ধরনের কাজ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। কাজের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই দীর্ঘসূত্রতা করা যাবে না।
এছাড়া ভূমি প্রতিমন্ত্রী ভূমি সেবাকে আরও ইউজার ফ্রেন্ডলি ও সহজ করার কথা উল্লেখ করে বলেন, শুধু রুটিন মাফিক কাজ না করে ভূমি সেবাকে কীভাবে আরও ইউজার ফ্রেন্ডলি এবং সহজ করা যায়, সে বিষয়ে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে একটি অত্যাধুনিক একাডেমি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি।
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আইনি কাজে কোনো নেতিবাচক আপস করা যাবে না। আইনের বাইরে যাওয়ার ইখতিয়ার কারও নেই। কর্মকর্তাদের কাজের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনি সুরক্ষা বা ‘লিগ্যাল প্রটেকশন’ দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
বহিরাগত অনলাইন অপারেটদের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন (এমপি)। বাইরের ফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে যত্রতত্র অনলাইন ভূমি সেবা প্রদানকারীদের নিরুৎসাহিত করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। এসব জটিল কাজ পাসওয়ার্ড ও আইডিধারী নির্দিষ্ট প্রশিক্ষিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী।
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ভূমির আধুনিকায়ন করার বিষয়ে বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা এখন অনেক বেশি অটোমেটেড ও ডিজিটালাইজড। এই বার্তাটি গ্রাম-গঞ্জে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে যাতে তারা প্রতারণার শিকার না হন। ভূমির কাজ যে আগের চেয়ে সহজ হয়েছে, এই পারসেপশন বা ধারণা মানুষের মধ্যে তৈরি করতে হবে।
ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ আবুল খায়েরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড. মো. মাহমুদ হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন কোর্স পরিচালক খান এ. সবুর খান।
উল্লেখ্য, পাঁচদিন মেয়াদি ১৪তম ও ১৮তম উচ্চতর ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্সে মোট ৩৮ জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং ৩৬ জন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী কৃতী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করেন।