লালমনিরহাট থেকে যাত্রীবাহী বাসের বক্সে গাদাগাদি করে আনার সময় তীব্র গরমে দমবন্ধ হয়ে ৫৫টি ছাগল মারা গেছে। প্রাণির প্রতি এমন নিষ্ঠুর আচরণের অপরাধে বাসের সুপারভাইজার ও ছাগল ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এই দণ্ড প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা থেকে ‘অনিন্দ্য পরিবহণ’ নামক একটি যাত্রীবাহী বাসের মালামাল রাখার বক্সে লক্ষ্মীপুরের ব্যবসায়ী মো. ফারুকের ৪৭টি এবং নোয়াখালীর এক ব্যবসায়ীর ৮টি ছাগল তোলা হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শনিবার সকালে বাসটি নোয়াখালীর চৌমুহনী পৌঁছালে দেখা যায় সবকটি ছাগল মারা গেছে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ফারুক বাস চালক ও সুপারভাইজারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ উভয় পক্ষকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাসের সুপারভাইজার আবুল হাশেম ও ব্যবসায়ী মো. ফারুককে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ফারুক জানান, দীর্ঘ দুই বছর ধরে তারা এভাবেই বাসের বক্সে ছাগল পরিবহণ করে আসছিলেন। প্রতিটি ছাগলের জন্য ৩০০ টাকা করে ভাড়া দেওয়া হতো। বাসের চালক ও সুপারভাইজারের অবহেলার কারণে তার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে দাবি করে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
অন্যদিকে বাসের সুপারভাইজার আবুল হাশেম জানান, পথে ছাগলগুলো ভালো থাকলেও গন্তব্যে পৌঁছানোর পর দেখা যায় সবগুলো মরে পড়ে আছে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন সোহেল রানা জানান, পর্যাপ্ত বাতাসের অভাব ও প্রচণ্ড গরমে দমবন্ধ হয়ে ছাগলগুলো মারা গেছে। এটি প্রাণির প্রতি চরম নিষ্ঠুরতা। আদালতের নির্দেশে মৃত ছাগলগুলোকে মাটিতে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা জানান, প্রাণির প্রতি নির্দয় আচরণের অপরাধে দুই পক্ষকেই জরিমানা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।