আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা : মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন আমাদের স্বাধীনতা। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা একবারই এসেছে, এর আগেও আসেনি, আবার পরেও আসবে না। আর আমাদের ঠিকানা মুক্তিযুদ্ধ এবং আমাদের ঠিকানা ৭১।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার (২৮ মার্চ) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

নগর ভবনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ’৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন, ’২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন—এগুলো আমাদের বড় রাজনৈতিক অর্জন। স্বাধীন দেশে এই রাজনৈতিক অর্জনগুলোকে আমরা শ্রদ্ধা করি। তাই বলে এই অর্জনগুলোর সঙ্গে আমরা যদি স্বাধীনতাকে সমানতালে মিলিয়ে ফেলি, তবে তা হবে আমাদের জন্য অনেক বড় বিপর্যয়ের কারণ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগরীর প্রায় দেড় হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করেন।

জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে বীর শহীদ স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানার্থে সম্মাননা স্মারক, ফুলেল শুভেচ্ছা ও উত্তরীয় প্রদান করা হয়। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে একাত্তরের রণাঙ্গনের স্মৃতিচারণ করেন ক্যাপ্টেন নুরুল হুদা, সিটুসি, ৯ নম্বর সেক্টর, বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীর ও সদস্য-সচিব সাদেক আহমেদ খান, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক ইশতিয়াক আজীজ উলফাত ও বিএনপির মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক লে. ক. (অব.) জয়নাল আবেদীনসহ অন্যান্যরা।

এ সময় মন্ত্রী আহমেদ আযম খান আরও বলেন, তার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত শহীদদের সংখ্যা, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের মতো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজ করবে। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বিবেচনায় রয়েছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেওয়া না হলে দেশ কখনো এগিয়ে যেতে পারে না। মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো দল নেই, তারা এদেশের।

আব্দুস সালাম আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা দেশের  মালিকানার একমাত্র দাবিদার হওয়া সত্ত্বেও তারা দেশে সবসময় জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা, আবাসন ও উন্নত পরিবহণ সুবিধা নিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পরিচালিত স্কুলের শিক্ষার্থীরা দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন। এ ছাড়া বেবি নাজনীন, ইথুন বাবু, রিজিয়া পারভীন, মৌসুমি চৌধুরী ও শিবা শানুর মতো প্রথিতযশা শিল্পীরা পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *