ইসরায়েলি পরিচয়ে চলাফেরা কঠিন, হলিউড ছেড়ে দেশে ফিরছেন ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’?

‘ওয়ান্ডার ওম্যান’ হয়ে জয় করেছেন বিশ্ব, ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ ও ‘রেড নোটিস’ এর মতো সিনেমায় দেখিয়েছেন অভিনয়ের দাপট। হলিউডে তারকাখ্যাতি পাওয়া সেই গ্যাল গ্যাদতকেই এখন যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলি পরিচয় নিয়ে চলতে হচ্ছে অস্বস্তিতে। ইহুদিবিদ্বেষ ও ইসরায়েলবিরোধী মনোভাবের কারণে বদলে গেছে তার অভিজ্ঞতা। তাই কি এবার স্বামী-সন্তান নিয়ে হলিউডের ঝলমলে জীবন ছেড়ে নিজ দেশ ইসরায়েলে ফিরতে চাইছেন এই অভিনেত্রী?

সম্প্রতি ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২ এর অনুষ্ঠান ‘এরেতজ নেহেদেরেত’ এ অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন গ্যাল। প্রায় ১২ বছর ধরে দেশটিতে থাকছেন তিনি। অভিনেত্রীর ভাষ্য, ইসরায়েলি পরিচয়ের কারণে সেখানে এখন নানা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। বাইরে বের হলে অনেকেই চিনে ফেলেন। কখনো কখনো সুপারমার্কেটে যাওয়ার সময়ও মুখে মাস্ক পরতে হয়।

গ্যালের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব ও ইহুদিবিদ্বেষ বেড়েছে। ইসরায়েলের পরিস্থিতি নিয়ে অন্যদের কাছে ব্যাখ্যা দিতে হয় তাঁকে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবার নিয়ে দেশে ফেরার পরিকল্পনা আছে কি না, অনুষ্ঠানে তাঁকে সরাসরি সেই প্রশ্ন করা হয়।

জবাবে গ্যাল বলেন, ‘অবশ্যই, আমরা এখানে একটি বাড়িও তৈরি করছি। আমরা ফিরতে চাই, এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।’ তাঁর স্বামী ব্যবসায়ী জ্যারন ভারসানো। তাঁদের চার মেয়ের মধ্যে তিনজনের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে, একজনের ইসরায়েলে। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও পরিবার নিয়ে ইসরায়েলে স্থায়ী হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁদের। তবে কবে নাগাদ ফিরবেন, তা নির্দিষ্ট করে জানাননি অভিনেত্রী।

যদিও ইসরায়েলে ফেরার পরিকল্পনা মানেই অভিনয় ছেড়ে দেওয়া নয়। এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেননি গ্যাল। এর আগে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে হতাশ হয়ে অভিনয় ছেড়ে দেশে ফিরে পড়াশোনা শেষ করার কথা ভেবেছিলেন তিনি। গত সেপ্টেম্বরে দ্য জিউইশ ক্রনিকলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান অভিনেত্রী। পরে ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’ চরিত্রের প্রস্তাব তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

২০০৯ সালে ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ সিনেমার মাধ্যমে হলিউডে যাত্রা শুরু করেন গ্যাল। তবে ২০১৬ সালে ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান: ডন অব জাস্টিস’এ ওয়ান্ডার ওম্যান চরিত্রে অভিনয়ের পর তাঁর পরিচিতি বাড়তে থাকে। পরের বছর একক সিনেমা ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’ তাঁকে বিশ্বজুড়ে তারকাখ্যাতি এনে দেয়। এরপর ‘জাস্টিস লিগ’, ‘ওয়ান্ডার ওম্যান ১৯৮৪’, ‘ডেথ অন দ্য নাইল’, ‘হার্ট অব স্টোন’ ও ‘স্নো হোয়াইট’এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। নেটফ্লিক্সের ‘রেড নোটিস’ এও দেখা গেছে তাঁকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *