টপঅর্ডার ব্যাটাররা শুরুটা ভালোই এনে দিলেন। তবে মিডলঅর্ডার ব্যাটাররা ঠিক সেই ধারা অব্যাহত রাখতে পারলেন না। তবুও চ্যালেঞ্জিং পুঁজি দাঁড় করা বাংলাদেশ। এরপর বাকি কাজটা করেন বোলাররা। দারুণ পারফরম্যান্সে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের দৌঁড়ে টিকে রইল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) ওমানের আল-আমিরাত ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রথমে ব্যাট করে ৪৯.৪ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ২৪৫ রান তুলে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ৪৬.২ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ২০০ রান তুলতে পারে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
৪৫ রানের এই জয়ে ‘বি’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ খেলে সমান এক জয় আর হারে ২ পয়েন্ট বাংলাদেশের। ২ ম্যাচ খেলে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে আফগানিস্তান। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সমান ২ পয়েন্ট নিয়ে রানরেটে পিছিয়ে থাকায় টেবিলের তিন নম্বরে আছে শ্রীলঙ্কা।
রান তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে শ্রীলঙ্কা। নিয়মিত বিরতিতে লঙ্কানদের উইকেট তুলে নেয় যুব টাইগার বোলাররা। এতে জয়ের সম্ভবনা তৈরি হয় বাংলাদেশের। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে সেই সম্ভাবনায় চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছিলেন সেনুজা ওয়েকুনাগোডা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি আর বাংলাদেশের জয় আটকাতে পারেনি।
ম্যাচের ষষ্ঠ ওভারে লঙ্কান ওপেনার ভিারন চামুদিথাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম উইকেট এনে দেন শেখ আতিকুর রহমান। সেই শুরু। এরপর তার সঙ্গে যোগ দেন বাকি বোলাররা।
বাকিদের যাওয়া-আসার ভিড়ে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চারিয়ে যাচ্ছিলেন তিন নম্বরে নামা সেনুজা ওয়েকুনাগোডা। হাফসেঞ্চুরি করে লঙ্কানদের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তিনি। ৩৭তম ওভারে ৯৫ বলে ৮৫ রান করা এই লঙ্কান ব্যাটারকে ফিরিয়ে প্রতিরোধ ভাঙেন তাফিউল আলম তামিম। এরপর বাকিদের চেষ্টা কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৪৫ রানে।
বাংলাদেশের হয়ে সমান ২টি করে উইকেট তুলে নিয়েছেন তাফিউল আলম তামিম, শেখ আতিকুর রহমান, রুবায় ইসলাম রিজন ও রবিউল হাসান অনিক। একটি উইকেট নেন এসকে জারিফ সিয়াম।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দেন দুই ওপেনার আব্দুল্লাহ আল মুহি আর এসকে জারিফ সিয়াম। শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করেন মুহি। ভালো শুরু পেলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি তিনি। ২৫ বলে ৩০ রান করে পেরেন।
আরেক ওপেনার জারিফ কিছুটা ধীরগতির ব্যাটিং করলেও হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন। তবে এরপর আর বেশি দূর এগোতে পারেননি। ৮৩ বলে ৫৯ রান করে আউট হন তিনি। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৯৮ বলে ৮২ রানের ইনিংস খেলেন চার নম্বরে নামা এহসান আল মুমিন। এর বাইরে আর কোনো ব্যাটার সেভাবে দায়িত্ব নিতে পারেননি।