গত ১৫ ও ১৬ অক্টোবর ঢাকা ও চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ঢাকার বিমানবন্দরের ফরেন পোস্ট অফিসে পরিচালিত চারটি পৃথক অভিযানে স্বর্ণের বার, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ, ডার্মাল ফিলার ও স্কিন বুস্টার ইনজেকশনসহ ২৩টি আমদানি নিষিদ্ধ আটক ও জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। অভিযানে আটক ও জব্দকৃত পণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ২২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৫ অক্টোবর সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের একজন যাত্রীকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে নজরদারির আওতায় আনা হয়।
যাত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান প্রথমে শুধু ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারের ঘোষণা প্রদান করেন এবং জিজ্ঞাসাবাদে স্বর্ণবার বহনের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
পরবর্তীতে অন্যান্য সংস্থার উপস্থিতিতে কাস্টমস হলরুমে দেহ তল্লাশি করে তার কাছ থেকে ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। স্বর্ণের বারটি ডিটেনশন মেমোর মাধ্যমে আটক করা হয়। আটক স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ২১ লাখ ৬ হাজার টাকা।
একই দিনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দার কর্মকর্তারা পৃথক তৎপরতায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৩০ লিটার মদ আটক করে।
সকাল ১১টায় মুম্বাই থেকে আগত এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটের একজন যাত্রীর ব্যাগেজ পরীক্ষা করে ১৬ লিটার মদ পাওয়া যায়। পাশাপাশি বিমানবন্দরের টয়লেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও সাড়ে সাত লিটার এবং অন্য দুই যাত্রীর কাছ থেকে সাড়ে ছয় লিটার মদ আটক করা হয়। আটককৃত মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ টাকা।
১৬ অক্টোবর সকাল ১১টা ১৩ মিনিটে কলম্বো থেকে আসা শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের একজন যাত্রীর ব্যাগেজ সন্দেহজনক হওয়ায় কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তা স্ক্যান ও পরীক্ষা করেন।
পরীক্ষাকালে যাত্রী মো. রাকিব হোসেনের ব্যাগেজ থেকে চার ধরনের মোট ১৫৫টি (১৬১ মিলিলিটার) ডার্মাল ফিলার ও স্কিন বুস্টার ইনজেকশন আটক করা হয়। আটককৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।
এসব পণ্য মূলত মুখের বলিরেখা কমানো, ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, মুখের গঠন পরিবর্তন এবং ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করার জন্য ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের যথাযথ তত্ত্বাবধান ছাড়া এসব ইনজেকশন প্রয়োগ করলে সংক্রমণ, রক্তনালিতে বাধা, ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি এবং গুরুতর ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের ফরেন পোস্ট অফিসে পরিচালিত অভিযানে এ-শিফটের কর্মকর্তারা বিপুল পরিমাণ আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ করেন।
এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে মোট ১১০৪ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ গৌরি স্কিন হোয়াইটেনিং ক্রিম এবং ২৩টি আমদানি নিষিদ্ধ ব্যবহৃত ল্যাপটপ কম্পিউটার। জব্দকৃত পণ্যগুলোর মোট আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা।