ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চললেও পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব। নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের ঝটিকা অভিযানের পর লোকদেখানো ঢিলেঢালা নজরদারির সুযোগ নিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত ট্রলার নিয়ে নদীতে তাণ্ডব চালাচ্ছে অসাধু চক্র।
উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। শনিবার (১৭ অক্টোবর) পর্যন্ত অভিযানে ২৯ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে।
তবে বাস্তব চিত্রে তার প্রতিফলন মিলছে না। তেঁতুলিয়া নদীর ধুলিয়া লঞ্চঘাট থেকে বগী তুলাতলা এবং দক্ষিণ চরওয়াঢেল থেকে চর রায়সাহেব পর্যন্ত বিস্তৃত পয়েন্টে প্রতিদিন অবাধে ইলিশ শিকার চলছে। গত ১৬ অক্টোবর সকালে চরব্যারেট পয়েন্টে শত শত নৌকায় দুপুর পর্যন্ত নির্বিঘ্নে ইলিশ শিকার করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় যুবদল নেতা মো. আব্বাস ফরাজীর নেতৃত্বে সেখানে অসাধু জেলেরা সংগঠিত হয়ে ইলিশ নিধনে নামেন। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সংবাদকর্মীদের ওপর ক্ষিপ্ত হন।
একইভাবে শনিবার দুপুর ২টায় ধুলিয়া পয়েন্টে অন্তত ৫০টি ট্রলার এবং চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াঢেল এলাকায় ১০০টিরও বেশি ট্রলার জোট বেঁধে জাল ফেলে ইলিশ শিকার করে। এ দীর্ঘ সময়ে নদীতে মৎস্য বিভাগ বা নৌ পুলিশের কোনো টহল দেখা যায়নি।
উপজেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো. বাবুল ব্যাপারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি যেন চোর-পুলিশ খেলা! একদিকে জেলেরা অবাধে মা ইলিশ ধ্বংস করছে, অন্যদিকে প্রশাসন নামমাত্র অভিযান দেখাচ্ছে। কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে নদীতে আর ইলিশের দেখা মিলবে না।
অভিযানের শিথিলতার বিষয়ে জানতে চাইলে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বর্তমানে শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ব্যস্ত থাকায় টহলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। তবে মা ইলিশ রক্ষায় অচিরেই নদীতে কঠোর চিরুনি অভিযান চালানো হবে।
অন্যদিকে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ বলেন, নদীতে নিয়মিত তদারকি চলছে। তবে সুবিশাল নদীর একপ্রান্তে অভিযান চালাতে গেলে অন্যপ্রান্তে জেলেরা নেমে পড়ে, যা নিয়ন্ত্রণে কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।