মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিমে ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার, অনুমোদনহীন ফার্মেসি পরিচালনা ও নিয়মবহির্ভূতভাবে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে ‘ডাক্তার’ হোসনে আরা সুমিকে তিন মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাঁর পরিচালিত লং লাইফ মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড প্রাইভেট হাসপাতাল লিমিটেড সিলগালা করা হয়েছে।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার কমলাঘাট এলাকায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুন্না খাতুনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম, ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান শেষে সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম বলেন, হোসনে আরা সুমি নিজের নামের সঙ্গে ‘এমবিবিএস সমমান’ ডিগ্রি ব্যবহার করছিলেন। অথচ এ ধরনের ডিগ্রির কোনো স্বীকৃতি নেই। চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। ২০১০ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইনে এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য কারও চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহারের সুযোগ নেই।
ডা. সাজেদা বেগম আরও বলেন, হোসনে আরা সুমি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় পড়াশোনা করেছেন বলে দাবি করলেও তাকে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করতে দেখা গেছে। অভিযানে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার প্রতিষ্ঠানে ওষুধ বিক্রির জন্য একটি ছোট ফার্মেসি থাকলেও সেটির কোনো লাইসেন্স পাওয়া যায়নি।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে হাসপাতালের ব্যানার ও পোস্টার লাগানো থাকলেও হাসপাতাল পরিচালনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দেখা যায়নি। সেখানে কিছু যন্ত্রপাতি পাওয়া গেছে। একটি কক্ষকে অপারেশন থিয়েটারের মতো মনে হলেও সেটি তালাবদ্ধ ছিল। হাসপাতালের নাম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
এসব অনিয়মের কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত হোসনে আরা সুমিকে তিন মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে বলেও জানান সিভিল সার্জন।