জুলাই আন্দোলনে সার্বক্ষণিক সমন্বয়কদের পাশে থেকেছে বিএনপি : রাশেদ খাঁন

বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের আসামিদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনিরকে আইনজীবী নিয়োগের ঘটনা টেনে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জামায়াত নেতৃবৃন্দের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অ্যাডভোকেট শিশির মনিরকে দল থেকে বহিষ্কার ও রাজনীতিতে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে সার্বক্ষণিক সমন্বয়কদের পাশে থেকেছে বিএনপি।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ ওয়াজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন রাশেদ খাঁন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে গণঅধিকার পরিষদের এই সাবেক নেতা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

গত বুধবার শহীদ আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে রাশেদ খান বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের বিচারে ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদসহ নানা সংগঠন রাজপথে নেমেছে, এমনকি শিবিরও কর্মসূচি পালন করেছে। কিন্তু আবরার ফাহাদের খুনিদের আইনজীবী হয়েছিলেন জামায়াতের বিখ্যাত আইনজীবী শিশির মনির। ওই খুনিদের মধ্যে নামধারী ছাত্রলীগের আড়ালে আসল শিবির সদস্যরা ছিল বলেই কি তাদের রক্ষায় শিশির মনিরকে নিয়োগ দিয়েছিল জামায়াত?

জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোতে শিশির মনিরদের রাজপথে দেখা যায়নি। এমনকি তার বা জামায়াতের আমিরের ফেসবুক প্রোফাইলটি পর্যন্ত রক্তিম করা হয়নি। জামায়াত আমির একদিন রাজপথে নেমেছেন এমন কোনো ছবি বা ভিডিও কেউ দেখাতে পারবে না। অথচ আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক পাশে থেকেছে বিএনপি ও এর শীর্ষ নেতৃত্ব। ছাত্র সমন্বয়করাই এর সবচেয়ে বড় সাক্ষী।

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, একদিকে আবরার হত্যার বিচার চাওয়া আর অন্যদিকে তার খুনিদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া—জামায়াত-শিবিরের ঐতিহ্যগত দ্বিমুখী রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ। সম্প্রতি আবরার ফাহাদের বাবাও বিষাদগ্রস্ত হয়ে বিষয়টিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলেছেন। শিশির মনিরকে জাতীয় নির্বাচনে নমিনেশন দিয়ে পুরস্কৃত করেছে দলটি, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। জামায়াত যদি সত্যিই আবরার ফাহাদের আদর্শ ধারণ করে, তবে দ্রুত শিশির মনিরকে পার্টি থেকে বহিষ্কার ও রাজনৈতিকভাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *