ইরান-সুইডেন সম্পর্কে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক বহিষ্কার

স্টকহোমে ইরানি দূতাবাসের এক কর্মীকে সুইডেন বহিষ্কার করার পর বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তেহরানে নিযুক্ত এক সুইডিশ কূটনীতিককে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইরান। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুইডেনের সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদ জানাতে তেহরানে সুইডিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছিল।

সুইডিশ কর্তৃপক্ষ বুধবার অভিযোগ করেছিল যে, ইরান দীর্ঘদিন ধরে এমন সব কার্যক্রম পরিচালনা করেছে যা সুইডেনের অভ্যন্তরীণ ও সুইডেনের বিরুদ্ধে নিরাপত্তার হুমকি সৃষ্টি করে।

বৃহস্পতিবার ইরান এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন হিসেবে অভিহিত করেছে।

সুইডেনে প্রবাসী হিসেবে থাকা ইরানের ভিন্নমতাবলম্বীদের একটি বড় অংশ বসবাস করে। বেশ কয়েক বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক উত্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে।

চলতি বছরের মার্চে ইসরায়েলের হয়ে গোয়েন্দাগিরির অভিযোগে এক ইরানি-সুইডিশ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান।

এছাড়া আরেকজন সুইডিশ-ইরানি নাগরিক আহমাদরেজা জালালি গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইরানে কারাবন্দি রয়েছেন। ২০১৭ সালে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাথে যোগসাজশের অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।

সুইডিশ সিকিউরিটি সার্ভিস এর আগে অভিযোগ করেছিল যে, সুইডেনে ইসরায়েলি ও অন্যান্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থানে সহিংসতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য অপরাধী চক্রের সদস্যদের ভাড়া করছে ইরান—যা ইরান অস্বীকার করেছে।

সুইডিশ সরকারের মতে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সুইডেনে একাধিক ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্টকহোমে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসের চত্বরে ছুড়ে মারা একটি গ্রেনেডও উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *