বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়া : তদন্ত কমিটির কাছে যা বলেছেন তামিম

নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। বিসিবির দাবি ছিল, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যেন সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়। তবে দেড়মাস ব্যাপী আলেচনা শেষে আইসিসি জানায়, বাংলাদেশের দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানায় বিশ্বকাপে।

বাংলাদেশের ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার কারণ উদঘাটনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। সেই তদন্ত কমিটি বক্তব্য নিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবালের। যেখানে তামিম জানিয়েছেন, ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের ক্রিকেটই।

তদন্ত কমিটির কাছে তামিম জানিয়েছেন, ভারতে না খেলার সিদ্ধান্তে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। তামিমের অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টার সিদ্ধান্তের পেছনে ক্রিকেটের স্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক অবস্থান ও ভারতবিরোধী মানসিকতা বেশি কাজ করেছে।

তামিম উল্লেখ করেন, তৎকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টার মূল লক্ষ্য ছিল ক্রিকেটের পরিবর্তে ফুটবলকে পুনরুজ্জীবিত করা। তার ভাষায়, “ফুটবলই সবকিছু, আর ক্রিকেট কিছুই নয়।” সরকারের অবস্থানকে তিনি “ক্রিকেটবিরোধী এবং ভারতবিরোধী মানসিকতা” হিসেবেও উল্লেখ করেন।

তামিমের দাবি, ক্রীড়া উপদেষ্টা গণমাধ্যমের মাধ্যমে এমন একটি জনমত তৈরি করেছিলেন, যার ফলে ভারতে না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে শুধু বাংলাদেশের ক্রিকেটই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, দুই প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তামিম। তিনি বলেন, ‘আইপিএল ভারতের একটি ঘরোয়া লিগ হলেও বিশ্বকাপ আইসিসির আয়োজনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। অতীতে ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তনের নজির থাকলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইসিসি সূচি পরিবর্তন করতে রাজি হয়নি।’

তামিম বলেন, ‘বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের বিপক্ষে ১৪টি দল অবস্থান নিলেও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিয়েছিল। পরে পাকিস্তান নিজেই বিশ্বকাপে অংশ নেয়। অথচ শুরুতে বাংলাদেশ অংশ না নিলে বিশ্বকাপে না খেলার কথা জানিয়েছিল তারা।’

রাজনীতির সঙ্গে ক্রিকেটের সম্পর্কের প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘রাজনীতি খেলাধুলায় বড় ভূমিকা পালন করেছে।’ তার মতে, ক্রিকেটের স্বার্থকে অগ্রাধিকার না দেওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন বিসিবি সভাপতি। তামিমের দাবি, আইসিসির মোট আয়ের বড় একটি অংশ ভারত ও ভারতসংশ্লিষ্ট স্পনসরদের কাছ থেকে আসে। তাই মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএলে না খেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে বিরোধে জড়ানো বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত ছিল না।

তামিমের বলেন, ‘আগ্রহের বিষয় হওয়া উচিত ক্রিকেট এবং এটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইসিসির সিদ্ধান্ত ছিল “দ্বৈত মানদণ্ডের” উদাহরণ।’

ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে তদন্ত প্রতিবেদনকে নজির হিসেবে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তামিম। তার মতে, বাংলাদেশ সরকার অথবা বিসিবির উচিত ছিল আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করে ভেন্যু পরিবর্তনের চেষ্টা করা এবং বাংলাদেশি ক্রিকেটার ও সাংবাদিকদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তবে নিরাপত্তার বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তামিম বলেন, ‘ক্রীড়া উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্টরা প্রথমে ভারতে যাওয়ার কথা বললেও পরে অবস্থান পরিবর্তন করেন। অন্য একটি দেশের মতামতের দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিগত ক্ষোভ বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও মানুষের স্বপ্ন ধ্বংসের কারণ হওয়া উচিত নয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *