পদ্মা-যমুনায় হু-হু করে বাড়ছে পানি, প্লাবিত পাবনার হাজার বিঘা ফসলি জমি

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে পাবনা অঞ্চলে পদ্মা ও যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। নদী দুটির পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার হাজারো বিঘা ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন চরাঞ্চলের শত শত কৃষক।

উপকূলীয় ও চর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষীকুণ্ডা, ডিগ্রীর চর, দাদাপুর, চর কুড়ুলিয়া এবং সদর উপজেলার চর ভবানিপুর ও শানিকদিয়ারসহ নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠে এখন থইথই পানি। কোথাও কোমরসমান আবার কোথাও হাঁটুপানি জমে রয়েছে। মাঠে থাকা আগাম জাতের সবজি, মূল ভূখণ্ড ও চরের অন্যান্য আবাদ তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন কৃষকেরা।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাাউবো) সূত্রে জানা গেছে, পাবনার ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর বিপদসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। আজ সেখানে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ০৬ মিটার, যা বিপদসীমার মাত্র ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে, যমুনা নদীর আরিচা পয়েন্টে বিপদসীমা আট দশমিক ৯৫ মিটার হলেও সেখানে বর্তমানে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে সাত দশমিক ৮৩ মিটার।

হঠাৎ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষি খাতের পাশাপাশি লোকালয়েও বন্যা ছড়িয়ে পড়ার ভয়াবহ আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে থাকা অবশিষ্ট ফসল রক্ষায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আকস্মিক এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন থেকে বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক তদারকি জোরদার করা হয়েছে। আক্রান্ত এলাকার জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ টন জিআর চাল, ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং নগদ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন ও সহায়তার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *