ব্যাটিংটা খুব একটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। তুলনামূলক দুর্বল ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষেও হাঁসফাঁস করতে হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতি-দিলারা আক্তার-জুয়াইরিয়া ফেরদৌসদের। জয় পেতে তাই দায়িত্ব নিতে হতো বোলারদের। নিজেদের কাজটা ভালোভাবেই করেছেন নাহিদা আক্তার-মারুফা আক্তাররা। তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বড় জয় দিয়ে এশিয়া কাপ শুরু করল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।
আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) নারী এশিয়া কাপে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান করে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ১৭.৩ ওভারে গুটিয়ে যাওয়ার আগে মোটে ৫৮ রান তুলতে পারে ইন্দোনেশিয়া। বাংলাদেশ জয় পায় ৭১ রানের।
রান তাড়ায় নেমে শুরুটা মন্দ ছিল না ইন্দোনেশিয়ার। প্রথম ২.৪ ওভারেই ১৯ রান তুলে ফেলে তারা৷ এরপরই আঘাত হানে বাংলাদেশ। সেই যে শুরু! এরপর আর টাইগ্রেসদের সামনে দাঁড়াতে পারেনি ইন্দোনেশিয়ার ব্যাটাররা। স্পিন কিংবা পেস—বাংলাদেশের কোনো বোলারদেরই মোকাবিলা করতে পারেননি তারা। বিশেষ করে টাইগ্রেস স্পিনারদের ঘূর্ণিতে কপোকাত হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ব্যাটাররা। গুটিয়ে গেছে মোটে ৫৮ রানেই।
ইন্দোনেশিয়ার পুরো ব্যাটিংয়ের মাত্র একজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন। বাকিরা ফিরেছেন সিঙ্গেল ডিজিটেই। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট শিকার করেছেন নাহিদা আক্তার। ২টি উইকেট পেয়েছেন মারুফা আক্তার। আর সমান একটি করে উইকেট পেয়েছেন ফাহিমা খাতুন আর সানজিদা আক্তার মেঘলা।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌসকে হারায় বাংলাদেশ। ৭ বলে ৮ রান করেই ফেরেন তিনি। ধীর গতির ব্যাটিং হলেও শুরুর ধাক্কা বড় হতে দেননি আরেক ওপেনার দিলারা আক্তার আর সোবহানা মোস্তারি। ৪০ রানের জুটি গড়েন তারা। দশম ওভারে দিলারা ফিরলে ভাঙে এই জুটি। ৩১ বলে ২৭ রান করেন তিনি।
এরপর দ্রুতই ফিরে যান অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ১১ বলে ১০ রান করেন তিনি। একপ্রান্ত আগলে রাখা সোবহানাও আর বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি। হাফসেঞ্চুরির আশা জাগিয়ে ফেরেন তিনি। ৪২ বলে ৪০ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
সোবহানা ফেরার পর কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন স্বর্ণা আক্তার। বাকিরা অবশ্য আর দায়িত্ব নিতে পারেননি। একজন ব্যাটারও দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত স্বর্ণা অপরাজিত থাকেন ১৮ বলে ৩১ রানে। ৩ চার আর এক ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংস।