ডেপুটি স্পিকারের মানবিক উদ্যোগে সুস্থতার পথে পচন রোগে আক্রান্ত রনা রংদী

আর্থিক অনটন আর সঠিক চিকিৎসার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে পায়ে মারাত্মক পচনজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দাহপাড়া গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা রনা রংদী (৬৫)। অবশেষে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রত্যক্ষ মানবিক সহযোগিতায় জীবন রক্ষা পেল এই অসহায় বৃদ্ধের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রনা রংদী দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় শুভানুধ্যায়ীদের একটি বিশেষ টিমের উদ্যোগে গত ১৪ আগস্ট তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে দ্রুত তাকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঢাকায় নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, বৃদ্ধ রনা রংদীর পায়ে রক্তনালীতে দুটি গুরুতর ব্লক ধরা পড়েছে। রক্ত সঞ্চালন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই তার পায়ে এমন ভয়াবহ পচন ধরেছিল। ঘটনাটি জানতে পেরেই তাৎক্ষণিকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি নিজে হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে অসুস্থ রনা রংদীর শারীরিক অবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার নিজ কাঁধে তুলে নেন।

বর্তমানে ডেপুটি স্পিকারের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যায় রনা রংদীর সফল চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি এখন আলহামদুলিল্লাহ পুরোপুরি সুস্থতার পথে রয়েছেন।

সুস্থ হয়ে আবেগপ্লুত রনা রংদী ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, অর্থের অভাবে যখন চিকিৎসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল, ঠিক তখন ডেপুটি স্পিকার অভিভাবক হয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার এই ঋণ ও মানবিকতা তারা আজীবন মনে রাখবেন।

এ বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “অসহায় মানুষের সেবায় এগিয়ে আসাই আমাদের প্রধান নৈতিক দায়িত্ব। রনা রংদী যেন দ্রুত পুরোপুরি সুস্থ হয়ে পরিবারে ফিরতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, তিনি এখন অনেক ভালো আছেন। মানবতার কল্যাণে আমাদের এই সেবামূলক কাজ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *