বরগুনায় রাতের আঁধারে গাছে উঠে ডাব চুরি করার সময় ভিমরুলের কামড়ে সজোড়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন দবির (৩৫) নামের এক যুবক। নিচে পড়ে যাওয়ার পর যন্ত্রণায় কোমর ও হাত ভেঙে নড়াচড়া করতে না পেরে শেষমেশ প্রাণ বাঁচাতে বাড়ির মালিককেই ডেকে সাহায্য চান তিনি। পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে বরগুনা সদর উপজেলার খাড়াকান্দা এলাকার বাসিন্দা বেলালের বাড়িতে এই আজব ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার ভোররাতের দিকে স্থানীয় বেলাল মিয়ার বাড়ির একটি নারিকেল গাছে ডাব চুরির উদ্দেশ্যে ওঠেন দবির। তিনি গাছে উঠে করাত দিয়ে বেশ কিছু ডাব কেটে নিচেও ফেলেন। কিন্তু বাঁধ সাধে গাছের একটি ডালে লুকিয়ে থাকা ভিমরুলের বাসা। অসাবধানতাবশত ভিমরুলের বাসায় করাতের আঘাত লাগার সঙ্গে সঙ্গে একঝাঁক ভিমরুল আক্রমণ করে দবিরকে কামড়াতে শুরু করে। কামড়ের চোটে ভারসাম্য হারিয়ে তিনি সজোড়ে মাটিতে ছিটকে পড়েন। এতে তার কোমর ও হাতে মারাত্মক আঘাত পান এবং নিথর হয়ে গাছের নিচে পড়ে থাকেন।
যন্ত্রণায় উঠে দাঁড়াতে না পেরে অবশেষে সকালে বাধ্য হয়ে ওই বাড়ির লোকজনকে ডেকে ডাকাডাকি শুরু করেন দবির। চিৎকার শুনে বের হয়ে বাড়ির মালিক বেলাল দেখতে পান ডাব ও করাতসহ চোর নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বেলাল বলেন, সে এলাকার সব গাছের ডাব আর সুপারি নিজেকে মালিক মনে করে চুরি করত। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর সে আমাদের ডেকে বলল—ভাই আমাকে উদ্ধার করেন, আমি গাছের নিচে পড়ে আছি। গিয়ে দেখি হাত-কোমর ভেঙে চোর গাছের নিচে পড়ে ছটফট করছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দিই।
বরগুনা সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছের নিচে পড়ে থাকা অবস্থায় আহত দবিরকে উদ্ধার করা হয়েছে। আঘাত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।