রাজধানীর কাফরুলে এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় প্রেমিক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে (৩২) আমৃত্য কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল৷
আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। বিচারক রায়ের পাশাপাশি তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন।
এছাড়াও, রায়ে আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানার টাকা ক্ষতিগ্রস্তকে দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন। এরপর তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে আবারও কারাগার পাঠানো হয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, আসামি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের পূর্ব পরিচিত ছিলেন ভুক্তভোগী ওই নারী। ঘটনার ১১ মাস আগে ভিকটিমের স্বামীর মৃত্যু হয়। পূর্বপরিচিত হওয়ায় জাহাঙ্গীর প্রায়ই তার বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০ টায় জাহাঙ্গীর হোসেন কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুরের এক বাসায় তাকে ধর্ষণ করেন। ভিকটিম বিষয়টি আশপাশের মানুষকে জানাতে চাইলে তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন জাহাঙ্গীর। একই আশ্বাসে তিনি ভুক্তভোগীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তিনি তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। ওই ঘটনায় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভিকটিম জাহঙ্গীরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলাটি করেন। পরে একই বছরের ২৫ নভেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আকলিমা আক্তার। ভিকটিমের নবজাতক সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষায় আসামি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের গর্ভজাত বলে প্রমাণিত হয়েছে। বিচার চলাকালীন ৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ রায় দেন ট্রাইব্যুনাল।