চা-বাগানের শ্রমিকদের মুখে মুখে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বেঁচে থাকা শতবর্ষের পুরোনো এক লোকগান নতুন সংগীতায়োজনে উঠে এসেছে কোক স্টুডিও বাংলার সিজন ৪-এ। আজ রাত ৮টায় প্রকাশিত হয়েছে সিজনটির চতুর্থ গান ‘মুল্লুক’। গানটিতে উঠে এসেছে চা-শ্রমিকদের ইতিহাস, শিকড়ে ফেরার আকাঙ্ক্ষা, পরিচয় এবং আপন ঠিকানা খোঁজার গল্প।
গানটির মাধ্যমে পুরোনো লোকঐতিহ্যের সঙ্গে সমকালীন সংগীতের মেলবন্ধন ঘটিয়েছে বিকল্পধারার ব্যান্ড ‘মেঘদল’। দুই দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা সংগীতে নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করা ব্যান্ডটি এবার চা-শ্রমিকদের জীবন ও সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুন সংগীতভাষায় তুলে ধরেছে।
‘মুল্লুক’ তৈরি হয়েছে ঐতিহ্যবাহী লোকগান ‘পিঞ্জরাকে পুষল ময়না’র পঙ্ক্তি ও সুরকে ভিত্তি করে। প্রায় শতবর্ষ আগে বাংলাদেশের চা-শ্রমিকদের জীবন ও ‘মুল্লুক চলো আন্দোলন’ থেকে গানটির ভাবনা নেওয়া হয়েছে। সেই সময়ের সংগ্রামের পাশাপাশি নিজের মাটি ও শিকড়ে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, পরিচয় এবং আপন ঠিকানা খুঁজে পাওয়ার স্বপ্নও উঠে এসেছে গানটিতে।
শিবু কুমার শীলের কথা ও সুরে তৈরি ‘মুল্লুক’-এ কণ্ঠ দিয়েছেন চা-শ্রমিক রনজু তাঁতি ও রঞ্জিত তাঁতি। তাঁদের কণ্ঠের সঙ্গে মেঘদলের সমকালীন সংগীতধারা তৈরি করেছে আলাদা এক আবহ। শ্রীমঙ্গলের ঢোলের ছন্দ এবং শিল্পীদের আবেগঘন পরিবেশনা গানটির আবহকে আরও গভীর করেছে।
‘মুল্লুক’-এর গল্প শুধু চা-শ্রমিকদের একটি সম্প্রদায়ের ইতিহাসে সীমাবদ্ধ নয়। আপন মাটি ও ঘরে ফেরার আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে তৈরি গানটি তাঁদের কথাও বলে, যারা প্রতিদিন পরিশ্রম করে একটি ভালো ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন। নিজের একটি দেশ, ঠিকানা কিংবা এমন একটি ঘরের আকাঙ্ক্ষা, যেখানে সত্যিকার অর্থে ফিরে আসা যায়—গানটির অন্যতম মূল ভাবনা এটি।
বাংলাদেশের লোকঐতিহ্যের ভেতরে ছড়িয়ে থাকা গল্পগুলোকে সমকালীন সংগীতের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ধারাবাহিকতায় কোক স্টুডিও বাংলার এবারের আয়োজনেও রয়েছে এমন প্রয়াস। ‘মুল্লুক’-এ লোকসংগীতের শিকড়ের সঙ্গে মেঘদলের সংগীতধারার সংযোগ ঘটেছে। এর মধ্য দিয়ে চা-শ্রমিকদের শতবর্ষের পুরোনো ইতিহাস, স্মৃতি ও সংগ্রাম পেয়েছে নতুন সংগীতভাষা।
কোক স্টুডিও বাংলা সিজন ৪-এর ‘মুল্লুক’ গানটি এখন কোক স্টুডিও বাংলার অফিসিয়াল চ্যানেলসহ বিভিন্ন ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে শোনা যাচ্ছে।