রংপুরের পীরগঞ্জে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিস প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে ভুল চিকিৎসা ও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এক প্রসূতি মা ও তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহত গৃহবধূর নাম শ্রাবণী আক্তার (১৯)। তিনি উপজেলার পীরগঞ্জ পৌরসভাস্থ ওসমানপুর সর্দারপাড়া গ্রামের মতিয়ার রহমানের একমাত্র মেয়ে। এই ঘটনার পর নিহতের স্বজনদের কান্না ও বিক্ষোভে স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রাঙ্গণে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা কৌশলে পালিয়ে যান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রসূতির নিয়মিত চেকআপের জন্য প্রসূতির মা ও খালা গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে তাকে পীরগঞ্জ নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে নিয়ে যান। এ সময় চিকিৎসকেরা স্বজনদের জানান, ওই দিনই সিজার করতে হবে, নইলে প্রসূতির বিপদ হতে পারে। এরপর নিহত শ্রাবণীর মা সিজারের টাকা জোগাড় করতে যান এবং বাবা মতিয়ার রহমানকে ওষুধ আনতে পাঠানো হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, অভিজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই ক্লিনিকের অদক্ষ নার্স ও কর্মচারীরা অস্ত্রোপচারের জন্য মাত্রাতিরিক্ত চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করেন। ভুল চিকিৎসার কারণে প্রসূতির রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নগর মাতৃসদন কর্তৃপক্ষ স্বজনদের কিছু না জানিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর অনেক আগেই ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের বাবা মতিয়ার রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নগর মাতৃসদন কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই আমার মেয়ে ও তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
মতিয়ার রহমান আরও বলেন, টাকা দিতে না পারায় আমার মেয়েকে ২ ঘণ্টা ধরে অপারেশন থিয়েটারে রাখা হয়। আমি টাকা সংগ্রহের জন্য যাই। টাকা নিয়ে এসে দেখি আমার মেয়েকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছে। আমি প্রশ্ন করি- আমাদের না জানিয়ে কেন অ্যাম্বুলেন্স ডেকেছেন? তখন তারা জানায় আগে রোগীকে রংপুরে নিয়ে যান। আমি এর বিচার চাই।
ঘটনার পর মাতৃসদন কেন্দ্রে গিয়ে কক্ষগুলোতে তালা ঝুলতে দেখা যায় এবাং তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। ফলে সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি।
পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদ রানা বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। তাদের কার্যক্রম চালাতে বারবার মৌখিকভাবে নিষেধ করা হলেও তারা কার্যক্রম চালিয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনও অবগত নই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।