বিয়ে নিয়ে গুজব, আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি পূজা চেরির

বিয়ে ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একের পর এক বিভ্রান্তিকর খবর ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা চেরি। তার ভাষ্য, যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে নিজের আইনি অধিকার রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান পূজা। সেখানে নিজের বিয়ে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন খবরকে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে পূজা লিখেছেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আমার বিয়ে ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একের পর এক ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ করা হচ্ছে। কখনো অমুক পেশার কারও সঙ্গে, আবার কখনো অন্য কারও সঙ্গে নাম জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ তৈরি করা হচ্ছে- যা অত্যন্ত বিব্রতকর এবং দুঃখজনক।’

নিজের বাগদান ও বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে পূজা লেখেন, ‘আমি আগেই একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছিলাম—আমি এনগেজড এবং পারিবারিকভাবেই আমার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। আমি এটাও নিশ্চিত করেছিলাম যে, যখনই আমার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে, আমি নিজেই তা প্রকাশ্যে অত্যন্ত আনন্দের সাথে সবাইকে জানাব। লুকানোর কিছু নেই।’

বর্তমানে ক্যামেরার নেপথ্যে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি লেখেন, ‘বর্তমানে আমি নিজেকে কিছুটা সময় দিচ্ছি, নতুন কাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছি এবং সেই কারণেই ক্যামেরার সামনে অনুপস্থিত।’

সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, ‘কোনো তথ্য যাচাই না করে বারবার আমাকে জড়িয়ে এভাবে অসত্য সংবাদ প্রকাশ করার পেছনে উদ্দেশ্য কী, তা আমার বোধগম্য নয়। বারবার বলতে চাই—আমার এখনো বিয়ে হয়নি। যখন হবে, আপনারাই প্রথম জানতে পারবেন।’

পোস্টে নিজের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সুনামের অধিকার প্রসঙ্গেও আইনি বিষয় তুলে ধরে অভিনেত্রী লেখেন, ‘অনুমতি ছাড়া কারও ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা এবং কোনো নাগরিককে নিয়ে ভিত্তিহীন বা মিথ্যা তথ্য প্রচার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৪৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের আইনি সুরক্ষা এবং তার ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা ও সুনাম রক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর ২৫ ধারা অনুযায়ী ইন্টারনেটে বা ডিজিটাল মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে মিথ্যা, অপমানজনক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

সবশেষে সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে পূজা লেখেন, ‘আমি সবসময় আপনাদের ভালোবাসা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতাকে সম্মান জানিয়ে এসেছি। কিন্তু আমার নীরবতাকে কেউ যদি ভিত্তিহীন সংবাদের সুযোগ বানিয়ে নেয়, তবে আমি নিজের আইনি অধিকার রক্ষায় বাধ্য হব। আশা করি, সাংবাদিক ভাই-বোনেরা ও গণমাধ্যমকর্মীরা বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশন করবেন এবং অসত্য নিউজ প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকবেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *