জার্মান সীমান্তের কাছে দুর্গম একটি প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়া বেলজিয়ামের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে রোববার (১৬ আগস্ট) অগ্নিনির্বাপণ বিমানের সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয় কৃষকেরাও। পানি বহনকারী ট্রাক্টর নিয়ে তারা আগুন নেভাতে অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের সহায়তা করেছেন। ভয়াবহ এই দাবানলে সংরক্ষিত এলাকার বিশাল অংশ পুড়ে গেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
দুই দিন আগে হাই ফেনস পার্কে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরই মধ্যে আগুন প্রায় ৩ হাজার হেক্টর (৭ হাজার ৫০০ একর) এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। জলাভূমি, পিটভূমি ও পাইনবনে ঘেরা এই এলাকা পর্যটক ও পথচারীদের কাছে অনেক জনপ্রিয়।
এলাকার অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের প্রধান লুক বুরেত সতর্ক করে বলেছেন, ‘আমরা যদি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারি, তাহলে পূর্বদিকে অল্প দূরেই থাকা জার্মান সীমান্ত পেরিয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
রোববার জার্মানির মন্সশাউ শহরের মেয়র কার্যালয় আগুন ও ধোঁয়া এবং পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে শহরের দুটি সড়ক থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। শহরটিতে প্রায় ১২ হাজার মানুষ বসবাস করেন।
বেলজিয়ামে মোতায়েন কয়েকশ উদ্ধারকর্মী ও অগ্নিনির্বাপণকর্মীর একজন গ্রেগরি মেলোত এএফপিকে বলেন, ‘আমরা লড়ে যাচ্ছি, কারণ সবাই চায় এই আগুন নিভে যাক।’ টানা তিন দিনের মধ্যে এটি ছিল তাঁর তৃতীয় শিফট।
তিনি বলেন, ‘আগুন যাতে উঁচু ফারগাছগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। তবে আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।’
বেলজিয়াম ও জার্মানির সীমান্তজুড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন হলদেটে ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। এর ফলে বেলজিয়ামের দুটি গ্রামের কিছু বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০ জন স্থানীয় একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রাত কাটিয়েছেন।