বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, ‘মানুষ একদিন চলে যায়, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে থেকে যাওয়া যায় যুগের পর যুগ। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তেমনই একজন ব্যক্তিত্ব। তাঁর ত্যাগ, সংগ্রাম, স্বাধীনচেতা নেতৃত্ব আর দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসাই তাঁকে মহান করেছে।’
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিমানমন্ত্রী।
জেলা বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠন আয়োজিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের একটি প্রতীক।
বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া চাইলে সন্তানের কাছে বিদেশে গিয়ে থাকতে পারতেন। কিন্তু দেশের মানুষকে ছেড়ে তিনি যাননি। নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেও দেশের মাটিতে থেকেছেন। মানুষের প্রতি ভালোবাসাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন অবস্থানের কারণেই খালেদা জিয়া ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম আজও দলীয় নেতাকর্মীদের অনুপ্রেরণা দেয়।
আফরোজা খানম রিতা বলেন, ‘আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে রাজনীতি শুরু করেছি। আজও বিভিন্ন সময়ে তাঁর কথা মনে পড়ে। তাঁর আদর্শ আমাদের পথ দেখায়।’
নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, সামনে বিএনপির জন্য কঠিন সময় ও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। দলের ভেতরে বিভাজন, দ্বন্দ্ব কিংবা ব্যক্তিস্বার্থ যেন দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না করে—এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
আফরোজা খানম রিতা বলেন, ‘অনেকেই এখন দলের জন্য জীবন দিয়ে দেওয়ার কথা বলবে। কিন্তু নেতৃত্বে যারা আছি, আমাদের বুঝতে হবে আসলে দলের জন্য কে কাজ করছে। সে আমার যত কাছের লোকই হোক না কেন, মনে রাখতে হবে—দলই সবার ওপরে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের স্বার্থে, তারেক রহমানের স্বার্থে এবং নিজ এলাকার মানুষের স্বার্থে আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একটি ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত আগামী পাঁচ বছর দিতে হতে পারে।’
নেতাকর্মীদের নিজেদের মধ্যে বিভাজন না রাখার আহ্বান জানিয়ে আফরোজা খানম রিতা বলেন, আল্লাহ যাকে যতটুকু দেওয়ার নির্ধারণ করে রেখেছেন, তা কেউ কেড়ে নিতে পারে না। তাই হিংসা বা লোভ না করে যার যে অবস্থান, তা সম্মানের সঙ্গে ধরে রেখে দলের জন্য কাজ করতে হবে।
বিমানমন্ত্রী বলেন, আজ তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভোটের কারণেই আমি এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছি, মন্ত্রিত্ব পেয়েছি। তাই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের স্বপ্ন পূরণ করাই আমার প্রথম দায়িত্ব।
আগামী দিনে মানিকগঞ্জে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আফরোজা খানম রিতা বলেন, দীর্ঘ সময় ধানের শীষের অনুপস্থিতিতে দলের নেতাকর্মীদের অনেক কঠিন সময় পার করতে হয়েছে।
বিশেষ করে ছাত্রদল থেকে উঠে আসা নেতাকর্মীদের প্রতি নিজের আস্থার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা ছাত্রদল থেকে রাজনীতি করে এসেছে, আমি তাদের সবসময় অগ্রাধিকার দিই। কারণ তারা অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে রাজনীতি শিখেছে।’
সভায় জেলা কৃষকদলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আজাদ হোসেন খান, নূরতাজ আলম বাহার ও জহির আলম খান লোদীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
আলোচনা সভায় খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্রের জন্য তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম এবং দলের ভবিষ্যৎ পথচলায় তাঁর আদর্শের গুরুত্ব তুলে ধরেন বক্তারা।