বিশ্বকাপের পর প্রথমবার সান্তোসের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার জুনিয়র। সবাই যখন তার অবসরের গুঞ্জন নিয়ে ব্যস্ত, তখন বদলি হিসেবে মাঠে নেমে নিজের কাজটা ঠিকঠাক মতোই করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। নিজে গোল না পেলেও সতীর্থকে দিয়ে গোল করিয়েছেন নেইমার। তার দল কোপা দো ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
তবে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে নয়, ম্যাচ শেষে নেইমার আলোচনায় এসেছেন প্রতিপক্ষের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে। প্রতিপক্ষ দলের সমর্থক থেকে শুরু করে ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন নেইমার।
ঘটনাটি ঘটে ম্যাচ শেষে মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে যাওয়ার সময়। সাংবাদিক ব্রেনো রাইওলের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, শেষ বাঁশি বাজার পরপরই প্রতিপক্ষ দল রেমোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন নেইমার। তবে ঠিক কী নিয়ে এই বিতর্কের শুরু সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রেমোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার পর নেইমারের উদযাপনকে ‘উসকানি’ হিসেবে দেখে রেমোর সমর্থকরা। নেইমার মাঠে নামা থেকে শুরু করে তার উদযাপন দেখে ‘দুয়ো’ দিতে থাকে রেমোর সমর্থকরা। এসময় নেইমারও সেটার জবাবে ‘বাদ পড়েছো’ বলে চিৎকার করেন।
সংবাদমাধ্যগুলোর দাবি, এসময় নেইমার ক্লাবটির কর্মকর্তাদের উদ্দেশেও বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে বিদ্রুপ করেন।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের করিডোরের ভেতরে গিয়ে রেমো প্রতিনিধি দলের এক সদস্য পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নেইমারকে গালাগালি করেন। নেইমারও চিৎকার করে প্রতিক্রিয়া দেখান। এসময় আশেপাশে থাকা খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফরা উভয়কেই শান্ত করার চেষ্টা করেন।
ঘটনার পর নেইমারের কড়া সমালোচনা করেছেন রেমোর সভাপতি আন্তোনিও কার্লোস তেইশেইরা। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘সান্তোসের এমন আচরণ প্রয়োজন ছিল না। আর বদমাশ নেইমার, যাকে অনেক শিশু আদর্শ মানে, সে এখানে এসে আমাদের উসকানি দিয়েছে। এমন মানুষদের আদর্শ বানানো সত্যিই দুঃখজনক।’
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ম্যাচের পুরোটা সময়ই নেইমারের প্রতি বৈরী আচরণ ছিল রেমোর সমর্থকদের। সান্তোস তারকা বেঞ্চে বসে থাকা অবস্থায় তাকে উদ্দেশ্য করে ‘দুয়ো’ দেন ক্লাবটির সমর্থকরা।