বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলামকে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি হিসেবে কারাভোগের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে এই শিক্ষক শিক্ষা ছুটিতে আছেন।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম বাছির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় গত বছরের ১৮ নভেম্ব নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলা বিচারাধীন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি জেলহাজতে ছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৯(২) এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ধারা ৪৪(৬) অনুযায়ী তাকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ঢাকায় এক নারীর সঙ্গে শফিকুল ইসলামের সম্পর্ক ছিল এবং পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের কথাও ঠিক হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি ওই নারীকে মোহাম্মদপুরে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে মারধর করেন এবং পরে কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পুলিশের দাখিল করা এজাহারে মামলার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম বাছির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী যা হওয়ার তাই হবে। অভিযোগ এসেছে যেহেতু এটা ফৌজদারি মামলা সেটা পুলিশ দেখবে। এটা বিশ্ববিদ্যালয় দেখবে না। বিশ্ববিদ্যালয় যেটা দেখতে পারে সেটা চাকরি যে শৃঙ্খলার সাথে সংগতিপূর্ণ কি না। সেজন্য তাকে আইন অনুযায়ী আদেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এই ঘটনায় অভিযোগকারী নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মামলা চলমান বিধায় এই বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।