২ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন। ছবি: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা আজ সোমবার (৩ আগস্ট) থেকেই শুরু হতে পারে। এর আগে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেন।
স্থানীয় সময় রোববার (২ আগস্ট) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আমরা আলোচনার মাধ্যমে এগোচ্ছি। আগামীকাল (সোমবার) বিকেলেই আলোচনা শুরু হবে। খবর বিবিসির।
এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর অনুরোধে তিনি হামলা স্থগিত করেছেন, কারণ সম্ভাব্য একটি সমঝোতার মৌলিক কাঠামো নিয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এ দাবির বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। আমরা পরিস্থিতি দেখব। যখন চাই তখনই হামলা চালানোর সক্ষমতা আমাদের আছে। তবে আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।
ট্রাম্প আরও জানান, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্ররা তাকে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের ভাষায়, আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম। তারা হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছে, কারণ তাদের বিশ্বাস একটি সমঝোতা হতে যাচ্ছে। হরমুজ নিয়ে একটি চুক্তি হবে, আর পারমাণবিক ইস্যুতেও সমাধান আসবে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম কমেছে।
ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৪.৫ শতাংশ কমে ৮৩ দশমিক ৯৮ ডলারে নেমেছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪.৬ শতাংশ কমে ৮০ দশমিক ৭৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। বিশ্বে ব্যবহৃত অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ ট্রাম্পের দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, হামলা স্থগিতের জন্য তেহরান কোনো অনুরোধ করেনি। সংস্থাটি ট্রাম্পের বক্তব্যকে আরেকটি নতুন মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সোমবারের সম্ভাব্য বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে কিংবা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, পরিকল্পিত হামলাটি বাস্তবায়িত হলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক আঘাত হতে পারত এবং এতে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেস্তে যেতে পারত।
তবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা ছিল কি না—এ প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এদিকে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবনে রেজা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি হুমকিকেই তেহরান বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করছে।
তার ভাষায়, আমরা কখনোই অপ্রস্তুত থাকব না, আবার নিষ্ক্রিয়ও থাকব না।
উল্লেখ্য, এর আগেও ট্রাম্প একাধিকবার ইরানকে কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন। এপ্রিলেও তিনি ব্যাপক হামলার হুমকি দিয়েছিলেন, যদিও পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসেছিল দুই পক্ষ। তবে সেই আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র
sn/sks