কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বাংলাদেশের খেলাধুলাকে বারবার রাজনীতিকরণ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, একটি জাতিকে গড়ে তুলতে শুধু অর্থনৈতিক বা শারীরিক উন্নয়ন নয়, খেলাধুলার বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
গতকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে ৪৪তম জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬-এ চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা জেলা ক্রিকেট দলকে দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, এই বাংলাদেশের খেলাধুলায় আমরা অনেক আগেই এগিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বারবার খেলাধুলাকেও রাজনীতিকরণ করা হয়েছে। এটাই সবচেয়ে দুঃখজনক। বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। দেশের উন্নয়নই আমাদের মূল দায়িত্ব।
তিনি জানান, কুমিল্লায় একটি ক্রীড়া ভিলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি ক্রীড়া মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে। তাঁর আশা, কুমিল্লার তরুণ খেলোয়াড়রা ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায় অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে।
ক্রিকেটারদের দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, অতীতে যোগ্য খেলোয়াড়দের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি, এমনকি দলীয়করণেরও শিকার হতে হয়েছে। এখন আর কোনো খেলোয়াড়ের রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হয় না।
খেলা দলের ঊর্ধ্বে এই নীতিতে সরকার বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি খেলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে, যাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি করা সম্ভব হয়।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ থাকলেও সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। মাঠগুলো সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা গেলে স্থানীয় পর্যায় থেকেই আরও দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি হবে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক রোজী আকতার এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য বদরুল হুদা জেনু। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব এমদাদুল হক এমদু।
অনুষ্ঠানে ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজসেবক ও বিপুলসংখ্যক ক্রিকেটপ্রেমী উপস্থিত ছিলেন। পরে চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত, দেশাত্মবোধক গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।