গোপালগঞ্জে নিখোঁজের দুদিন পর নাফিস আশরাফ আবিদ নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার গোবরা চৌধুরীপাড়া এলাকায় মধুমতী থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নাফিস আশরাফ আবিদ বেসরকারি গ্রিন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি সদর উপজেলার ঘোষেরচর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত আশরাফুল আলমের ছেলে। তার মা নাজিয়া আশরাফ ৪৯ নং ঘোষেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই (বুধবার) দিনগত রাতে বাড়ি থেকে বের হন নাফিস। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পরিবারের লোকজন গোপালগঞ্জ সদর থানায় নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরি করে। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় গোবরা চৌধুরীপাড়া এলাকায় স্থানীয় লোকজন মধুমতি নদীতে তার লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়, এসময় পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করে। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত শিক্ষার্থী নাফিস আশরাফ আবিদের মামা আনিসুল ইসলাম বলেন, আমার ভাগনে খুবই ভদ্র-ধার্মিক-নামাজি একটা ছেলে। সে ঢাকা থেকে আনুমানিক ৪-৫ দিন আগে গোপালগঞ্জে আসে। গত বুধবার ২৯ জুলাই দিনগত রাত ১টার দিকে হঠাৎ সে বাসায় নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বাসায় রেখে বাইরে চলে যায়। এরপর থেকেই আমরা তার আর কোনো খোঁজখবর পাইনি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে গোপালগঞ্জ সদর থানায় আমরা একটি নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করি। শুক্রবার সন্ধ্যায় খবর পেয়ে গোবরা চৌধুরীপাড়া এলাকায় মধুমতি নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ দেখে আমরা শনাক্ত করি। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। তার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের জন্য সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, সদর উপজেলার গোবরা এলাকায় ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়ায় এলাকায় মধুমতি নদীতে একটি লাশ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে যাই। লাশটি প্রথমে ভাসতে দেখি পরে নৌকা নিয়ে উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।