টানা পাঁচ দিন বিরতির পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে চালানো এই হামলার ফলে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশ এতে জড়িয়ে পড়ারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খবর আলজাজিরার।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম) থেকে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু হয়। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর আগের দিন ইরানের হামলার জবাবে এই শক্তিশালী হামলা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, হামলার সময় ইরানের কেশম, কিশ, বন্দর আব্বাস, আবাদান ও বুশেহর এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে বুধবার মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর দামিয়েত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি গ্যাস সংরক্ষণ ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বাহিনী পূর্ব ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক ও মিসরে সাম্প্রতিক এসব হামলা মধ্যপ্রাচ্যের আরও দেশকে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। এর আগে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (২৯ জুলাই) ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এবার আমাদের পালা।’
এসময় ট্রাম্প ইরানকে কঠোরভাবে আঘাত করার হুঁশিয়ারি দিলেও কূটনৈতিকভাবে শান্তিচুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি, বিশ্ব জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ যৌথভাবে পরিচালনার জন্য ওমানের দেওয়া প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে।