প্রথম স্পেলে ছয় ওভার বল করেও কোনো উইকেট পাননি। রানও দিয়ে ফেলেছিলেন ২৭। কিন্তু এরপর যেন অন্য এক জাস্টিন গ্রিভসকে দেখল ব্রায়ান লারা ক্রিকেট একাডেমি। দ্বিতীয় স্পেলে বল হাতে ফিরে এমন এক কীর্তি গড়লেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার, যা টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসেও আগে দেখা যায়নি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনে গতকাল টানা পাঁচটি মেডেন ওভারে পাঁচটি উইকেট শিকার করেন গ্রিভস। পাঁচ ওভারে একটি রানও দেননি, আবার প্রতিটি ওভারেই নিয়েছেন একটি করে উইকেট। টেস্ট ক্রিকেটের পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এমন কীর্তি গড়া প্রথম বোলার এখন তিনি।
তৃতীয় দিনের শুরুতে ৩ উইকেটে ১৯৯ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে পাকিস্তান। একপর্যায়ে ৬৩ ওভারে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ২৪৪। তখনও গ্রিভসের নামের পাশে কোনো উইকেট ছিল না। কিন্তু ৬৪তম ওভার থেকেই শুরু হয় তার বিধ্বংসী স্পেল। শান মাসুদকে বোল্ড করে সূচনা, এরপর একে একে আমের জামাল, আলি উসমান, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও মোহাম্মদ আব্বাসকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন তিনি।
মধ্যাহ্নবিরতির পর প্রথম ওভারেই আরও একটি উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন গ্রিভস। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৩১১ রানের জবাবে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ২৮২ রানে। মাত্র ৩৮ রানের মধ্যে শেষ সাত উইকেট হারায় সফরকারীরা।
দিন শেষে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে গ্রিভস বলেন, ‘বল কিছুটা সুইং করছিল এবং আমি তার ফলও পেয়েছি। যখনই আমার হাতে বল তুলে দেওয়া হয়, দল চায় আমি যেন তাদের ভরসা হয়ে উঠি এবং কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করি। টেস্টে ক্যারিয়ারে এই প্রথমবার ৫ উইকেট পেয়ে আমি সত্যিই খুব আনন্দিত, তবে খেলায় এখনো আমাদের কাজ বাকি।’
তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় স্পেলে বোলিংয়ে ফেরার সময় অধিনায়ক রস্টন চেজ তাকে শুধু একই শৃঙ্খলা ধরে রাখতে বলেছিলেন। সেই পরামর্শই কাজে দিয়েছে বলে মনে করেন এই অলরাউন্ডার।
তবে পাকিস্তানকে দ্রুত গুটিয়ে দিলেও ম্যাচ পুরোপুরি ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়নি। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ক্যারিবিয়ানরাও চাপে পড়ে। ৯৩ রানেই সাত উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল স্বাগতিকরা। পরে কেমার রোচ ও শামার জোসেফের অবিচ্ছিন্ন ৩৩ রানের জুটিতে দিন শেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে তাদের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১২৬ রান, লিড ১৫৫।
পাকিস্তানের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে মোহাম্মদ আব্বাস তিনটি এবং খুররম শাহজাদ দুটি উইকেট নেন। একটি করে উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ আলী ও আমের জামাল।
তৃতীয় দিনে দুই দলের বোলারদের দাপটে মোট ১৪টি উইকেটের পতন হলেও দিনটির সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম নিঃসন্দেহে জাস্টিন গ্রিভস। একটি স্পেল, পাঁচটি মেডেন, পাঁচটি উইকেট-আর তাতেই টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজের জন্য আলাদা একটি জায়গা তৈরি করে নিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই অলরাউন্ডার!
এসএন/পিডিকে