ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে রাবির ২ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ভবনে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকসুনেতা ও শিবিরের দাবির মুখে অভিযুক্ত দুই ছাত্রকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আজ সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় উপাচার্যের সঙ্গে রাকসু, হল সংসদ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বৈঠক শেষে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘ভিসি স্যার এক ঘণ্টা সময় চেয়েছিলেন। সেই সময়ের মধ্যেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। অভিযুক্ত দুজনকে পুলিশ নিজ উদ্যোগে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। তবে আমরা চাই, এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হোক।’

রাবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের অন্যতম দাবি ছিল ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। সে অনুযায়ী আনাস ও হাসান নামে দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ড. মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, ‘প্রকাশ্যে ছাত্রলীগের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করেছে। শিক্ষার্থীদের আরেকটি দাবি ছিল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে তদন্ত কমিটি গঠন। ভিসি স্যার খুব দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

এর আগে নারীঘটিত ইস্যুতে এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমানের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে তাকে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগকর্মী হিসেবে শনাক্ত করা হয় বলে অভিযোগ ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীদের। এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও তার সঙ্গে থাকা শিক্ষার্থীরা। উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী ছাত্রদলকর্মী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা করতে প্রক্টর দপ্তরে আসেন সাবেক ছাত্রলীগকর্মী ও বর্তমানে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আনাস। এ সময় প্রক্টরের সঙ্গে আনাসের বাকবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রক্টর তাকে দপ্তর থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

আজ দুপুর ১২টার দিকে অভিযোগের বিষয়ে মহসিন আলমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাকে প্রক্টর দপ্তরে তলব করা হয়। এ সময়ও আনাস সেখানে উপস্থিত হন। তিনি আবারও প্রক্টরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার তাকে মারধর করেন। এরপর ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আনাসকে গ্রেপ্তার করতে প্রক্টর দপ্তরে আসে পুলিশ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ডিসিপ্লিনারি কমিটির মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রক্টর পুলিশকে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

এরপর আনাস প্রক্টর দপ্তর থেকে বের হয়ে কিছু সময় পর ছাত্রদলের কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রাকসু ভবনে অবস্থানরত নেতাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং সহ-বিজ্ঞান সম্পাদক নাজমুস সাকিব আহত হন।

এরপর উভয় পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের দিকে চলে যায়। সেখানে রাকসুনেতা ও আনাসের নেতৃত্বাধীন দলের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। একপর্যায়ে আনাস ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা গ্রন্থাগারের রিডিং রুমে আশ্রয় নিলে রাকসু ও শিবিরের নেতাকর্মীরা সেখানে প্রবেশ করে তাদের মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান এবং জনসংযোগ দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে আহত এক সাবেক ছাত্রলীগনেতাকে হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ করে দেন প্রক্টর। হাসপাতালে নেওয়ার পথেও তার ওপর হামলা চালানো হয়। পরে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এরপর সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ‘সেইফ এক্সিট’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন রাকসু ও হল সংসদের নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *