প্রশ্নপত্র দেওয়ার পর লুকিয়ে ছবি তুলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অ্যাপে দিয়ে উত্তর জেনে পরীক্ষার হলে বসে সেই উত্তর দেখে নকল করছিলেন এক পরীক্ষার্থী। পরে কেন্দ্র পরিদর্শকের কাছে ধরা পড়ায় ওই পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থী বাকলিয়া কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী।
বন্যা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ বিরতির পর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন আজ সোমবার (২৮ জুলাই) সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।
কেন্দ্র সচিব ও কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক বেনুয়ারা বেগম বলেন, পরীক্ষার শেষের দিকে বাকলিয়া কলেজের মানবিক বিভাগের এক পরীক্ষার্থী মোবাইলসহ ধরা পড়ে। সে মোবাইল থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নকল করছিল। পরে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
মোবাইল নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করার সুযোগ পেল কীভাবে জানতে চাইলে কেন্দ্র সচিব বলেন, আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে তল্লাশি করে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দিই। সে হয়ত বডিতে কোনোভাবে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করেছে। এর আগে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসির পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) ১ম পত্র এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্রের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল এক হাজার ৮২৫ শিক্ষার্থী। যার মধ্যে কেবল চট্টগ্রাম জেলাতেই অনুপস্থিতির সংখ্যা এক হাজার ২০২ জন। বোর্ডে মোট অনুপস্থিতির হার প্রায় ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, নগরের একটি কলেজের মানবিক বিভাগের এক পরীক্ষার্থী মুঠোফোনসহ ধরা পড়েন। তিনি মুঠোফোন থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নকল করছিলেন। পরে তাকে বহিষ্কার করা হয়। মুঠোফোনটিও জব্দ করা হয়েছে।
বোর্ডের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান; এই পাঁচ জেলার ১১৪টি পরীক্ষাকেন্দ্রে মোট ৭৭ হাজার ৫৫৬ পরীক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭৫ হাজার ৭৩১ জন। জেলাভিত্তিক হিসাবে কক্সবাজারে ২৬৩, খাগড়াছড়িতে ১৫৪, রাঙামাটিতে ১০৯ এবং বান্দরবানে ৯৭ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।