নতুন সংসার ঘিরে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে রাজধানীতে পাড়ি জমানোর মাত্র দেড় মাসের মাথায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন ফাহিমা আক্তার (২২), তার স্বামী আনোয়ার হোসেন শাহিন ও আট বছরের ভাগনি হাফসা। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে কয়েক দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গতকাল শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় মারা যান ফাহিমা। এর আগে একই ঘটনায় দগ্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে তার স্বামী শাহিন এবং শুক্রবার শিশু হাফসা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
নিহত ফাহিমা আক্তার কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গোমতী আবাসিক এলাকার গোলাম হোসেনের ছোট মেয়ে। তিনি জাফরগঞ্জ মীর আব্দুল গফুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে অনার্সে ভর্তি হয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি এক অনলাইন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর দেবিদ্বারের বাঙ্গুরী গ্রামের শাহিনের সঙ্গে বিয়ে হয় ফাহিমার। দেড় মাস আগে তারা রাজধানীর উত্তর বাড্ডার ভাটারা এলাকার একটি ভবনের নিচতলায় বাসা ভাড়া নেন। সঙ্গে ছিল ফাহিমার বড় বোনের শিশুকন্যা হাফসা। গত ২১ জুলাই রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হঠাৎ বাসায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিকট শব্দে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে শরীরের ৭০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে ফাহিমা লড়ছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মারা যান তার স্বামী ও ভাগনি।
দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর শুক্রবার বাদ মাগরিব শিশু হাফসাকে তার বাবার বাড়ি দেবিদ্বারের সুলতানপুর গ্রামে এবং শাহিনকে বাঙ্গুরী গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় দেবিদ্বার গোমতী আবাসিক এলাকায় জানাজা শেষে বাঙ্গুরী গ্রামে স্বামীর পাশেই ফাহিমাকে দাফন করা হয়।
বাড়িওয়ালার অবহেলাকে দায়ী করে নিহত ফাহিমার বাবা গোলাম হোসেন বলেন, বাসায় ওঠার পরপরই বাড়ির মালিককে গ্যাস লিকেজের বিষয়টি জানানো হয়েছিল, কিন্তু তারা কোনো গুরুত্ব দেয়নি। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে আজ আমার মেয়েটা বেঁচে থাকত। আমি এই অবহেলার বিচার চাই।