বাংলাদেশের ক্রিকেট সূচিতে সবচেয়ে আলোচিত সিরিজগুলোর একটি হতে যাচ্ছে ভারতের বিপক্ষে আসন্ন লড়াই। প্রায় এক বছর পিছিয়ে যাওয়া এই সিরিজ ঘিরে জল্পনা থাকলেও এখন সেটি বাস্তবায়নের পথে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে আসবে ভারত। আর শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ঘরের মাঠে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় আছেন জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ!
মূলত ২০২৫ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের মাটিতে খেলার কথা ছিল ভারতের। তবে দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সফরটি স্থগিত হয়ে যায়। প্রায় ১৩ মাস পর নতুন করে সিরিজ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড।
জানা গেছে, সফর নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর মধ্যে ইতোমধ্যে মৌখিক আলোচনা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মিললেই প্রকাশ করা হবে সূচি।
সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ, সর্বশেষ ২০২২ সালে দেশের মাটিতে ভারতকে ওয়ানডে সিরিজে হারানোর সুখস্মৃতি এখনও টাটকা। এরপর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও ভালো ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। সেই ধারাবাহিকতা ভারতের বিপক্ষেও ধরে রাখতে চান মিরাজরা।
বর্তমানে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে গল গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে খেলছেন মিরাজ। টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স খুব একটা আলো ছড়াতে না পারলেও তার মনোযোগ এখন জাতীয় দলের দায়িত্বে। বিশেষ করে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে ভারতের বিপক্ষে সিরিজকে বড় পরীক্ষা হিসেবেই দেখছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম রেভস্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিরাজ বলেন, ‘ভারত সিরিজটি নিয়ে আমরা খুবই উচ্ছ্বসিত। ভারত এলে আমাদের জন্য দারুণ হবে কারণ অনেকদিন ধরেই আমরা ওদের বিপক্ষে ম্যাচ খেলিনি। ভারত খুবই শক্তিশালী দল এবং আমরা জানি আমাদের সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আমাদের লক্ষ্য থাকবে নিজেদের ঘরের কন্ডিশনে ভালো ক্রিকেট খেলা। সত্যি বলতে, আমরা লড়াইয়ের জন্য মুখিয়ে আছি।’
মিরাজের বক্তব্যে যেমন প্রতিপক্ষের শক্তির স্বীকৃতি রয়েছে, তেমনি রয়েছে নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আস্থাও। ঘরের মাঠের উইকেট, পরিচিত পরিবেশ এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সকে কাজে লাগিয়ে ভারতের মতো দলের বিপক্ষেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে চায় বাংলাদেশ।
তবে ভারতের বিপক্ষে সিরিজকে শুধু একটি দ্বিপাক্ষিক লড়াই হিসেবে দেখছেন না বাংলাদেশের অধিনায়ক। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির পথেও এটিকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ মনে করছেন তিনি। তার মতে, বড় দলের বিপক্ষে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারলেই বিশ্বকাপের মতো আসরে আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামা সম্ভব হবে।
এ প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, ‘আমার এবং দলের জন্য অধিনায়কত্ব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। গত কয়েকটা সিরিজে আমরা দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছি এবং আমাদের খেলোয়াড়রাও খুব ভালো পারফর্ম করেছে। চাপের মুহুর্তগুলো আমরা খুব ভালোভাবে সামলেছি। আগামী বিশ্বকাপটা আমাদের জন্য বড় একটা সুযোগ কারণ প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ই দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখে। প্রত্যেকদিনই আমাদের উন্নতি করতে হবে এবং ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশন দ্রুতই মানিয়ে নিতে হবে।’
ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে সূচি প্রকাশের আগেই দুই দলের সম্ভাব্য লড়াই নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। বাংলাদেশের জন্য এটি হবে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের একটি বড় মঞ্চ, আর মিরাজের কাছে এটি অধিনায়ক হিসেবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও। ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে আবারও স্মরণীয় একটি সিরিজ উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে টাইগাররা।
এসএন/পিডিকে