বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া। ১৮ বছর পর টাইগারদের বিপক্ষে নিজেদের মাটিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের আগে তাই চোট কাটিয়ে ফেরা অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়নকে নিয়েই দল ঘোষণা করেছে স্বাগতিকরা। তিন তারকার প্রত্যাবর্তনে অ্যাশেজ স্কোয়াডের তিন সদস্যকে জায়গা ছাড়তে হয়েছে।
আগামী আগস্টে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশকে আতিথেয়তা দিতে পূর্ণশক্তির দল ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া। দীর্ঘদিন পর অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়নের প্রত্যাবর্তনে আরও শক্তিশালী হয়েছে স্বাগতিকদের স্কোয়াড।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) ঘোষিত ১৩ সদস্যের দলে এই তিন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের ফেরা যেমন বড় খবর, তেমনি জায়গা হারিয়েছেন অ্যাশেজ স্কোয়াডে থাকা মাইকেল নেসার, ব্রেন্ডন ডগেট ও টড মার্ফি।
চোটের কারণে গত অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় ভোগান্তির জায়গা ছিল বোলিং বিভাগ। প্যাট কামিন্স পিঠের নিচের অংশের চোট কাটিয়ে কেবল অ্যাডিলেড টেস্টে খেলতে পেরেছিলেন। এরপর অ্যাশেজ নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় শেষ দুই টেস্টে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়! অন্যদিকে নাথান লায়ন অ্যাডিলেডে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে অস্ত্রোপচার করান এবং সিরিজের বাকি অংশে আর মাঠে নামতে পারেননি। জশ হ্যাজলউডও হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে ওঠার সময় অ্যাকিলিস ইনজুরিতে পড়ায় পুরো অ্যাশেজ মিস করেন।
কামিন্স ও হ্যাজলউডের অনুপস্থিতি শুধু অ্যাশেজেই সীমাবদ্ধ ছিল না। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলতে পারেননি এই দুই পেসার। সেই টুর্নামেন্টে সুপার এইট থেকেই বিদায় নেয় অস্ট্রেলিয়া। পরে অবশ্য দুজনই আইপিএলের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরেন। হ্যাজলউডের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল গত বছরের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে একটি টি-টোয়েন্টি।
বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ হবে বেশ ভয়ংকর। কামিন্স, হ্যাজলউড, মিচেল স্টার্ক ও স্কট বোল্যান্ড-এই চার অভিজ্ঞ পেসারের সঙ্গে থাকছেন দুই পেস বোলিং অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ও বো ওয়েবস্টার।
স্পিন বিভাগে নেতৃত্ব দেবেন নাথান লায়ন। ব্যাটিং লাইনআপেও অভিজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট। স্টিভ স্মিথ, ট্রাভিস হেড, মারনাস লাবুশেন, অ্যালেক্স ক্যারি ও জশ ইংলিসের পাশাপাশি অ্যাশেজে অভিষেক হওয়া জেক ওয়েদারাল্ডের ওপরও আস্থা রেখেছে নির্বাচকরা। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাভিস হেডের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করবেন ওয়েদারাল্ড।
বাংলাদেশের জন্য এই সফরের গুরুত্বও কম নয়। প্রায় ১৮ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে যাচ্ছে টাইগাররা। সবশেষ ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ, যেখানে তিনটিতেই হেরেছিল তারা। এবার অবশ্য লড়াই হবে টেস্টে, আর সেটিও আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ আগস্ট থেকে ম্যাকাইয়ে। বর্তমানে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আট ম্যাচে সাত জয় নিয়ে তাদের সফলতার হার ৮৭.৫০ শতাংশ।
অন্যদিকে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ রয়েছে চতুর্থ স্থানে। চার ম্যাচে দুটি জয়, একটি ড্র ও একটি হারে তাদের সফলতার হার ৫৮.৩৩ শতাংশ। চলতি বছরের মে মাসে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানেই অস্ট্রেলিয়া সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ!
অস্ট্রেলিয়ান টেস্ট দল
প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স ক্যারি, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হ্যাজলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, মারনাস লাবুশেন, নাথান লায়ন, স্টিভ স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, জেক ওয়েদারাল্ড ও বো ওয়েবস্টার।
এসএন/পিডিকে