সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে অনেক বাবা-মা অসুখী বা বিষাক্ত সম্পর্কেও বছরের পর বছর একসঙ্গে থাকেন। তাদের ধারণা, বিচ্ছেদের চেয়ে একসঙ্গে থাকাই সন্তানের জন্য ভালো। তবে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য বাবা-মায়ের একসঙ্গে থাকা নয়, বরং নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক পারিবারিক পরিবেশই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ঝগড়া, অপমান, মানসিক নির্যাতন বা অস্থিরতার মধ্যে বেড়ে ওঠা একটি শিশুর মানসিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাসের অভাব, কম আত্মসম্মান, আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা এবং ভবিষ্যতের সম্পর্ক নিয়ে অনিরাপত্তা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে সে নিজেকে নিরাপদ অনুভব করবে এবং ভালোবাসা, সম্মান ও মানসিক স্থিতিশীলতা পাবে। তাই কেবল সামাজিক চাপ বা লোকলজ্জার কারণে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেয়ে সন্তানের মানসিক সুস্থতার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, অনেক শিশু বাবা-মায়ের সম্পর্ক দেখে ভালোবাসা ও পারিবারিক আচরণের ধারণা গড়ে তোলে। যদি তারা প্রতিনিয়ত সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে বড় হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ককে স্বাভাবিক মনে করতে পারে অথবা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়তে ভয় পেতে পারে।
তাদের মতে, বিচ্ছেদ সব সময় নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নয়। অনেক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে আলাদা থাকা এবং সন্তানের দায়িত্ব যৌথভাবে পালন করা বিষাক্ত সম্পর্কে একসঙ্গে থাকার চেয়ে শিশুর জন্য বেশি ইতিবাচক হতে পারে।
তাই সন্তানের কল্যাণে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সমাজের প্রচলিত ধারণার চেয়ে পরিবারের বাস্তব পরিস্থিতি, পারস্পরিক সম্মান এবং শিশুর মানসিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
এসএন/পিডিকে