‘আমার সঙ্গে সম্মান দেখিয়ে কথা বলুন’-কেন এই কথা বললেন মেসি?

লিওনেল মেসিকে ফুটবল বিশ্ব চেনে তার অসাধারণ ড্রিবলিং, নিখুঁত পাস কিংবা শান্ত স্বভাবের জন্য! মাঠে রেফারির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়াতে তাকে খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু কানসাসের কোয়ার্টার ফাইনালে আজ ছিল ব্যতিক্রমী এক দৃশ্যপট। রেফারির সঙ্গে তর্ক, বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং অতিরিক্ত সময়ে জুলিয়ান আলভারেজের দুর্দান্ত গোলে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

শুরু থেকেই ম্যাচে ছন্দ খুঁজে পেতে সংগ্রাম করছিল লিওনেল স্কালোনির দল। মাঝমাঠে সুইজারল্যান্ডের চাপ এবং শারীরিক ফুটবলের কারণে স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারছিল না আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ১০ মিনিটেই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান লিওনেল মেসি। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে নিখুঁত পাসে গোল করিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ১০টি অ্যাসিস্টের মাইলফলক স্পর্শ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

কিন্তু ম্যাচের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন তিনি আরেকটি কারণে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে সুইজারল্যান্ড একটি ফ্রি-কিক পাওয়ার পর রেফারি জোয়াও পেদ্রো সিলভা পিনেইরো আর্জেন্টিনার ডিফেন্সিভ ওয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা মেসিকে আরও পেছনে যেতে নির্দেশ দেন। রেফারির কথার ধরন এবং অঙ্গভঙ্গি পছন্দ হয়নি মেসির। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় তিনি আঙুল তুলে বলেন, ‘আমার সঙ্গে সম্মান দেখিয়ে কথা বলুন। আমাকে অসম্মান করবেন না। আমি আপনার সঙ্গে সম্মান দেখিয়েই কথা বলেছি, আপনিও আমার সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলুন।’

ঘটনাটি সেখানেই থেমে থাকেনি! ৪৩ মিনিটে লেয়ান্দ্রো পারেদেসকে ঘিরে আরেকটি সিদ্ধান্তেও আপত্তি জানান মেসি। তার দাবি ছিল, পারেদেস সুইস মিডফিল্ডার জিবরিল সাওকে স্পর্শই করেননি। কিছুক্ষণ পর পারেদেসের ওপর কঠোর ট্যাকল করেন ব্রিল এমবোলো। রেফারি তাঁকে হলুদ কার্ড দেখান। পরে ৭২ মিনিটে ডাইভ দেওয়ার অভিযোগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এমবোলো। রেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়েও ম্যাচজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

এর মধ্যেই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় সুইজারল্যান্ড। ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে পিছিয়ে পড়া দলটি ৭২ মিনিটে ডান এনদয়ের গোলে সমতা ফেরায়। এরপর নির্ধারিত সময় শেষ হলেও কোনো দলই আর গোলের দেখা পায়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

১১৩ মিনিট পর্যন্ত দুই দলই ১-১ সমতায় ছিল। ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই নিজের প্রতিভার ঝলক দেখান জুলিয়ান আলভারেজ। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে সুইস গোলরক্ষককে পরাস্ত করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন তিনি। সেই গোলেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।

যোগ করা সময়ে সুইজারল্যান্ড সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণে উঠলে রক্ষণে ফাঁকা জায়গার সুযোগ নেয় আর্জেন্টিনা। দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে লাওতারো মার্তিনেজ দলের তৃতীয় গোল করে জয় নিশ্চিত করেন। ৩-১ ব্যবধানে জিতে টানা আরেকটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচজুড়ে নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না মেসি। প্রতিপক্ষের কড়া মার্কিংয়ে অনেকটাই নিষ্প্রভ ছিলেন তিনি। তবু একটিমাত্র নিখুঁত পাসে ইতিহাস গড়েছেন, অধিনায়ক হিসেবে সতীর্থদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন রেফারির সামনেও। মাঠে গোল না পেলেও ম্যাচের অন্যতম আলোচিত চরিত্র ছিলেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।

এই জয়ের ফলে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের লড়াইয়ে ফাইনালের টিকিটের জন্য ১৫ জুলাই দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হবে ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি। কানসাসের উত্তেজনাপূর্ণ রাতের পর এখন সেই মহারণের অপেক্ষায় গোটা ফুটবল বিশ্ব!

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *