যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান খুঁজে বের করতে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সহায়তা করতে প্রস্তুত। ক্রেমলিনের শীর্ষ উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ এ তথ্য জানিয়েছেন।
শনিবার (৪ জুলাই) প্রায় ৯০ মিনিটের এক ফোনালাপে ট্রাম্প ও পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করেন। আগামী সপ্তাহে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো সম্মেলনের আগে এই কথোপকথন হয়।
উশাকভ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আবারও নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি দ্রুত যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এবং সংকটের সমাধান খুঁজে বের করতে কাজ করতে প্রস্তুত।’
তিনি আরও জানান, ফোনালাপটি ছিল অত্যন্ত গঠনমূলক। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাশিয়া তাদের মৌলিক অবস্থান বিবেচনায় রেখে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে এই সংঘাতের সমাধান চায়।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও জানিয়েছেন, শনিবার তার সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনে কথা হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, তাদের আলোচনায় যুদ্ধের প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার (৭৪৫ মাইল) দীর্ঘ সম্মুখসারির পরিস্থিতি উঠে এসেছে।
টেলিগ্রামে তিনি লেখেন, ‘এই যুদ্ধ শেষ করার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে, আর এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।’
তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহের ন্যাটো সম্মেলনে এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁদের মধ্যে সম্মতি হয়েছে।
আগামী ৭ ও ৮ জুলাই আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পসহ ৩২টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে গত কয়েক মাসে কোনো পক্ষই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। এর প্রধান কারণ ব্যাপকভাবে ড্রোনের ব্যবহার, যা ভারী সামরিক যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে এবং উভয় পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি বাড়াচ্ছে।
এদিকে উশাকভ অভিযোগ করেন, ইউক্রেন এবং তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা, এমনকি সংঘাত আরও বাড়িয়ে তোলা এবং বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর ওপর নির্ভর করছে।
তিনি মূলত ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলার কথা উল্লেখ করেন। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনা, বিশেষ করে তেলশিল্প-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো। এর ফলে রাশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
এসএন/পিডিকে