হারিয়ে যাওয়া বন্ধুর জন্য চোখ ভিজল রোনালদোর

এক বছর আগেও এই দিনটি ছিল শোকের। আজ সেটিই হয়ে উঠল স্মৃতি, আবেগ আর জয়ের এক অদ্ভুত মিশেল। দিয়োগো জোতার মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর এক বছর পূর্তির দিনে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে মাঠে নেমেছিল পর্তুগাল। যে দলে থাকার কথা ছিল জোতারও। কিন্তু না থেকেও যেন তিনি ছিলেন দলের মাঝেই। সেই আবেগ নিয়েই ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে রবার্তো মার্তিনেজের দল।

গত বছরের ৩ জুলাই স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র ২৮ বছর বয়সে প্রাণ হারান জোতা। তার সঙ্গে নিহত হন বড় ভাই আন্দ্রে সিলভাও। বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার সময় সেই শূন্যতাকে ভিন্নভাবে তুলে ধরেছিলেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। তিনি বলেছিলেন, তার দলের সদস্যসংখ্যা ‘২৬+১’। মার্তিনেজ যেমনটা বলছিলেন, জোতা এখনও পর্তুগাল দলের ‘আলো’।

টরন্টোয় সেই ‘আলো’কে স্মরণ করার দিনেই নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে পর্তুগাল। পেনাল্টি থেকে দলের প্রথম গোলটি করেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল না জয়, ছিল জোতার স্মৃতি।

ফক্স স্পোর্টসকে রোনালদো বলেন, ‘জীবনের কী খেলা, অবিশ্বাস্য! ম্যাচের আগেই আমরা বিষয়টি জানতাম। অত্যন্ত আবেগঘন মুহূর্ত। আজ দলের সবাই মিলে আমরা এই কাকতালীয় বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। সত্যিই এটি অবিশ্বাস্য।’

শেষ বাঁশি বাজার পর ২১ নম্বর জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠে দাঁড়ান রোনালদো। এই জার্সিটিই পরতেন জোতা। আকাশের দিকে তাকিয়ে আঙুল উঁচিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। পরে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই অভিভূত। আজকের মুহূর্ত আমাদের কাছে অনেক বড় কিছু। শুধু ম্যাচটি জিতেছি বলেই নয়, যেভাবে জয়টি এসেছে, সেটিও দারুণ।’

রোনালদোর বিশ্বাস, জোতা তাদের সঙ্গেই ছিলেন। পর্তুগালের স্পোর্ট টিভিকে তিনি বলেন, ‘সে (জোতা) আমাদের মাঝেই আছে। তাকে সবচেয়ে ভালোভাবে সম্মান জানাতে আজকের জয়টি বড্ড দরকার ছিল।’

ম্যাচসেরার পুরস্কার গ্রহণের পরও আবেগ লুকাতে পারেননি পর্তুগাল অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি বিশেষ। কারণ, আমরা জানি জোতা ওপরে থেকে আমাদের পথ আলোকিত করছে। এটি সত্যিই একটি বিশেষ মুহূর্ত। সবাই অনুভব করেছি যে সে আমাদের সঙ্গেই ছিল। আর তাই আজকের এই জয়টাই ছিল তাকে সর্বোত্তমভাবে সম্মান জানানোর সবচেয়ে উপযুক্ত উপায়।’

শুধু রোনালদো নন, এই জয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন কোচ মার্তিনেজও, ‘পর্তুগিজ সমর্থকদের জন্য এটি অত্যন্ত আনন্দের একটি দিন। শুধু শেষ ষোলোতে উঠেছি বলেই নয়; বরং এই ম্যাচের ভিন্ন অর্থ আছে। যে বছরে আমরা দিয়োগো জোতাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি, সেই বছরেই এই জয় এল।’

বিশ্বকাপের শুরু থেকেই জোতার স্মৃতি বহন করে চলেছে পর্তুগাল। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে হিউস্টনের স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে তার সাদা-কালো ছবি প্রদর্শন করে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছিল। আর ক্রোয়েশিয়াকে হারানোর পর পুরো দল হাততালি দিয়ে স্মরণ করেছে প্রয়াত সতীর্থকে। রোনালদো নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ২১ নম্বর জার্সি হাতে দলের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমরা আমাদের জন্য জিতেছি দিয়োগো এবং পর্তুগাল। চলো এগিয়ে যাই।’

এখন পর্তুগালের সামনে নতুন পরীক্ষা। আগামী সোমবার টেক্সাসের আর্লিংটনে শেষ ষোলোর ম্যাচে স্পেনের মুখোমুখি হবে তারা। তবে টরন্টোর এই জয় পর্তুগিজ ফুটবল ইতিহাসে শুধু একটি নকআউট জয় হিসেবেই নয়, দিয়োগো জোতার স্মৃতির প্রতি এক আবেগময় শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবেও অনেক দিন মনে রাখা হবে!

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *