রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে তাহসান, বৈশ্বিক সহায়তার আহ্বান

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) শুভেচ্ছাদূত, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিনব্যাপী এই সফরকালে তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লক ঘুরে দেখেন এবং সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গা তরুণ-যুবকদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

এ সময় তিনি বাস্তুচ্যুত এই তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রতিদিনের জীবনের নানা জটিল চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ জীবনপরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের টেকসই ভবিষ্যতের জন্য বিশ্বমঞ্চ থেকে আরও জোরালো ও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানান এই তারকা।

রোহিঙ্গা তরুণদের সঙ্গে আলাপকালে তাহসান খান তাদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চিত ও বাস্তুচ্যুত জীবনের মানসিক দৃঢ়তা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেন। বছরের পর বছর ধরে নিজ মাতৃভূমি থেকে দূরে থাকা এবং নানা ধরনের সুরক্ষাজনিত ঝুঁকির মধ্যেও শিক্ষা এবং বিভিন্ন অর্থবহ সৃজনশীল কর্মকাণ্ড কীভাবে তাদের মানসিকভাবে শক্ত রাখছে, তা তরুণরা তাহসানের কাছে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা তরুণদের এই ইতিবাচক মনোভাব দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করে তাহসান খান বলেন, ‘এই তরুণদের মানসিক দৃঢ়তা ও অদম্য জীবনবোধ সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। বছরের পর বছর এক অনিশ্চিত বাস্তুচ্যুত জীবন কাটিয়েও তারা যেভাবে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে, নতুন কিছু শিখছে এবং কাজ করে যাচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, শুধু আশা বা স্বপ্ন থাকলেই হবে না, এই শরণার্থীদের জন্য উপযুক্ত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে তারা একদিন নিজেদের সমাজ পুনর্গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সফরের একপর্যায়ে তাহসান খান ক্যাম্পে চলমান বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গা তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেন। সেখানে প্রশিক্ষণরত তরুণরা তাহসানকে জানান, এই ব্যবহারিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণগুলো তাদের কর্মমুখী দক্ষতা বাড়াতে দারুণ সাহায্য করছে। তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, এই জ্ঞান একদিন নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর তাদের পুনর্বাসন ও নিজেদের নতুন করে প্রস্তুত করতে বড় ভূমিকা রাখবে। পরিদর্শনের শেষভাগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো তাগিদ দিয়ে তাহসান খান বলেন, আজ যেসব রোহিঙ্গা মানুষের সঙ্গে আমার দেখা ও কথা হয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই বুকভরা আশা নিয়ে এখনও একদিন নিজ দেশে সসম্মানে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তাই বৈশ্বিক রাজনীতির এই কঠিন সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তাদের পাশে থাকা এবং এই মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধানে কাজ করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *